Homeদেশমরতে চাও তো মরো, বাস থামাব না’, নয়ডা কাণ্ডে এফআইআরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

মরতে চাও তো মরো, বাস থামাব না’, নয়ডা কাণ্ডে এফআইআরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

resizeplus_DELHI BUS YT

নিউজ ডেস্ক: নয়ডা এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত বাসে আগুন লেগে ৯ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুক্রবার সকালে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের কাছে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, বাসে আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে যাত্রীরা পোড়া গন্ধ পান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁরা চালককে বাস থামানোর জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু সেই সময় বাস থামানোর পরিবর্তে চালক গতি বাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী।

অভিযোগ, যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে বাস থামানোর জন্য চিৎকার করলেও চালকের তরফে তাঁদের কথায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি, ‘মরতে চাও তো মরো, বাস থামাব না’—এই ধরনের মন্তব্য চালক করেছিলেন বলেও বয়ানে দাবি করা হয়েছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি পুলিশ।

ঘটনার পর বাসটির নথিপত্র এবং ট্রাফিক সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে জানা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, ওই বাসের বিরুদ্ধে মোট ১৭টি ট্রাফিক চালান বকেয়া ছিল। যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা। একটি বাসের বিরুদ্ধে এতগুলি চালান বকেয়া থাকা সত্ত্বেও সেটি কীভাবে নিয়মিত রাস্তায় চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে চালক ও বাসের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর অভিযোগ-সহ একাধিক ধারায় তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, বাসের যান্ত্রিক অবস্থা, চালকের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বেআইনি ও নিয়মভঙ্গকারী বাসের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এতগুলি ট্রাফিক চালান বকেয়া থাকা সত্ত্বেও বাসটি কীভাবে রাস্তায় চলছিল। পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল।

তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এখন তদন্তের রিপোর্টের দিকেই নজর। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, বাসের নথি, ট্রাফিক রেকর্ড এবং ফরেনসিক তথ্য মিলিয়ে কীভাবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তার উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved