Homeদেশআরশোলা পার্টির হুমকিতে কাঁপছে দিল্লী

আরশোলা পার্টির হুমকিতে কাঁপছে দিল্লী

resizeplus_delhi yt (2)

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR ঘিরে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলগুলি। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সংসদে সেই প্রস্তাব পেশ হয়নি। কংগ্রেস সূত্রে খবর, দুই কক্ষেই নোটিস দেওয়ার জন্য প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী SIR-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক বার আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন-বিয়োজন, ফর্মের পরিবর্তন এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও তাঁদের আপত্তির কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এর পরেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবি তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিইসির পদত্যাগ দাবি করেন। শুক্রবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করছে কংগ্রেস।

অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদীর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত এবং তিন সদস্যের কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনারদের সরাসরি বক্তব্য না থাকার বিষয়টিও তিনি প্রশ্ন করেছেন।

ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের প্রক্রিয়াও যথেষ্ট কঠোর। সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতো পদ্ধতিতে এবং প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার ভিত্তিতে অপসারণ করা যায়। প্রস্তাব গ্রহণের জন্য লোকসভায় অন্তত ১০০ এবং রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। পরে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, চলতি বছর মার্চেও জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে বিরোধীরা দুই কক্ষে ইমপিচমেন্টের নোটিস দিয়েছিল। এপ্রিল মাসে লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সেই নোটিস গ্রহণ করেননি বলে Indian Express-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে SIR, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং সিইসিকে অপসারণের দাবি—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে। এখন নজর, বিরোধীদের প্রস্তাব কবে সংসদে জমা পড়ে এবং সেটির পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved