Homeদেশনির্বাচন কমিশনের অন্দরে ১৪টি লিখিত আপত্তি, CEC-কে ঘিরে নতুন বিতর্ক

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ১৪টি লিখিত আপত্তি, CEC-কে ঘিরে নতুন বিতর্ক

resizeplus_নিউটাউনের (3)

নিউজ ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত প্রায় ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি নথিভুক্ত করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপত্তিগুলির বিষয় ছিল ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি, নাম বাদ দেওয়া বা পুনর্বহাল, ভোটার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল এবং ভোটার ডেটাবেস পরিচালনার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা। দুই কমিশনারের কিছু নোটে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাঁদের যথাযথভাবে জানানো বা তাঁদের সম্মতি নেওয়ার আগেই কার্যকর করা হয়েছিল।

বিশেষ করে Form 6-এ নতুন ভোটারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আপত্তির কথা সামনে এসেছে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকার ডিজিটাল ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণ আরও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন দুই কমিশনার।

পশ্চিমবঙ্গের SIR প্রক্রিয়া নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তির কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কে বা কার অনুমোদনে করা হয়েছিল, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

গোয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। সেখানে ৯৭ জন ভোটারের নাম সংক্রান্ত সফটওয়্যার সমস্যার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই কমিশনার ভোটার তালিকার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের ক্ষমতা ও অ্যাক্সেস নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।

তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা বক্তব্য রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ১৪টি নোটের অস্তিত্ব বা বিষয়বস্তু অস্বীকার করেনি। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, এগুলিকে আলাদা করে দেখলে পুরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ছবি পাওয়া যায় না। কমিশন জানিয়েছে, গত ১০ মাসে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি শেষ পর্যন্ত তিন সদস্যের সম্মতিতেই হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশনের বিবৃতিতে তিন সদস্যেরই স্বাক্ষর রয়েছে।

অন্যদিকে, এই তথ্য সামনে আসার পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই CEC জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

অর্থাৎ, ১৪টি লিখিত আপত্তির তথ্য সামনে এলেও সেগুলি ভোটার তালিকায় ইচ্ছাকৃত কারচুপি প্রমাণ করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এই মুহূর্তে নেই। এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট নথি, কমিশনের পরবর্তী ব্যাখ্যা এবং আদালতে চলা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মামলাগুলির দিকে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved