Homeজেলাঅসুস্থতার ‘ঢাল’, হাইকোর্টের নির্দেশে ডাক্তার নিয়ে গিয়ে ধর্ষণে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার

অসুস্থতার ‘ঢাল’, হাইকোর্টের নির্দেশে ডাক্তার নিয়ে গিয়ে ধর্ষণে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার

resizeplus_eisamay_2026-09-05_0kad9k2u_1780326332arrest-lead

নিউজ ডেস্ক; অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তার এড়ানোর অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশে সরকারি চিকিৎসক ও ভিডিয়োগ্রাফার সঙ্গে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ঘটনাটি হুগলির চুঁচুড়ার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম পার্থসারথি ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ব্ল্যাকমেল করে ধর্ষণ এবং টাকা ও দামি সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে চুঁচুড়া থানায় এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। এরপর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক বার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জেলা আদালত এবং হাইকোর্টে তাঁর জামিনের আবেদনও খারিজ হয়েছিল।

অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গেলে বারবার নিজেকে অসুস্থ বলে দাবি করতেন পার্থসারথি। কখনও অক্সিজেন মাস্ক, কখনও হাতে স্যালাইন নিয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যেত বলে পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়। এই পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তারের পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কী হবে, সেই আশঙ্কাতেই পুলিশ এতদিন সতর্ক ছিল বলে আদালতে জানানো হয়েছিল।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করেছিলেন অভিযুক্ত। পরে সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণীর অভিযোগ, এইভাবে তাঁর কাছ থেকে নগদ প্রায় ৭ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা এবং অনলাইনে আরও টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি দামি মোবাইল, ঘড়ি-সহ বিভিন্ন সামগ্রীও নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্তের পরিবারের তরফে তাঁর মানসিক অসুস্থতার কথাও দাবি করা হয়েছিল। তবে জেলা আদালত ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পর্যালোচনায় সেই দাবির বিষয়ে আপত্তি ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি হাইকোর্টে উঠলে বুধবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশকে নির্দেশ দেয়, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থাও করতে বলা হয়।

এরপর আদালতের নির্দেশ মেনে বিধাননগরের একটি আস্তানায় সরকারি হাসপাতালের তিন চিকিৎসক ও ভিডিয়োগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে যায় চুঁচুড়া থানার পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর পার্থসারথিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরে তাঁকে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই গ্রেপ্তারের পূর্ণ রিপোর্ট বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে পেশ করার কথা রয়েছে। মামলায় ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved