Last updated: October 15th, 2026 at 11:25 am

নিউজ ডেস্ক: কাজের সন্ধানে দিল্লি গিয়ে কি অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন? শরীরজুড়ে ক্ষত ও পোড়া দাগ নিয়ে বাড়ি ফেরার পর মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। বুধবার সকালে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে বিধান ওঝা (৪৫) নামে ওই ব্যক্তির। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, দিল্লিতে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বিধান। যদিও কারা, কী কারণে তাঁর উপরে অত্যাচার চালিয়েছিল বলে অভিযোগ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবি উঠেছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানের বাড়ি চুঁচুড়ার সুকান্তনগর এলাকায়। সংসারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও ন’বছরের ছেলে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় পাঁচ মাস আগে এলাকার ঠিকাদার প্রশান্ত হালদারের সঙ্গে দিল্লিতে কাজে গিয়েছিলেন তিনি। দিল্লির চন্দন হোলা এলাকায় রঙের কাজ করতেন বিধান। কাজের সূত্রে বাড়ি থেকে দূরে থাকলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই ফোনে কথা বলতেন তিনি।
কিন্তু চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আচমকাই বিধানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোনে তাঁকে না পেয়ে স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়ে পরিবারের সদস্যদের। তাঁরা যোগাযোগ করেন ঠিকাদারের সঙ্গে। তখনই জানতে পারেন, বিধান অসুস্থ। এরপর স্বামীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে দিল্লিতে পৌঁছন তাঁর স্ত্রী।
পরিবারের দাবি, সেখানে গিয়ে স্বামীর শারীরিক অবস্থা দেখে কার্যত ভেঙে পড়েন তিনি। বিধানের শরীরজুড়ে ছিল ক্ষত ও পোড়া দাগ। এমনকি, তাঁর অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। কী ভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে পরিবারের মনে একাধিক প্রশ্ন দেখা দেয়। তাঁদের সন্দেহ, দিল্লিতে থাকাকালীন বিধানের উপরে অত্যাচার চালানো হয়ে থাকতে পারে।
গত ১০ অক্টোবর ট্রেনে করে বিধানকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবার সূত্রে খবর, প্রথমে তাঁকে কল্যাণীর অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে শয্যা না পাওয়ায় তাঁকে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মৃত্যু হয় বিধানের। প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবার। ন’বছরের ছেলেকে নিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মুখে মৃতের স্ত্রী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে কী ভাবে সংসার চলবে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
এই মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। দিল্লিতে ঠিক কী ঘটেছিল? বিধানের শরীরে ক্ষত ও পোড়া দাগ কী ভাবে তৈরি হল? তাঁর অসুস্থতার পিছনে কোনও দুর্ঘটনা, শারীরিক নির্যাতন নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে? আপাতত এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তের দাবি উঠেছে।
চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিধানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দিল্লিতে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করা সম্ভব নয়। তদন্তের পরেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments