Homeউত্তর ২৪ পরগনাবারাসতজেলা পরিষদে ভাঙচুর ঘিরে বিজেপির অন্দরে দ্বন্দ্ব? বারাসতে দুই শিবিরের দুই সুর

জেলা পরিষদে ভাঙচুর ঘিরে বিজেপির অন্দরে দ্বন্দ্ব? বারাসতে দুই শিবিরের দুই সুর

eisamay_2026-10-14_jezkxj31_barasat-news

নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতির অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল বারাসতে। সোমবারের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার একই জেলা পরিষদকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই সাংগঠনিক শিবিরের দুই ভিন্ন অবস্থান সামনে এল। একদিকে ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উন্নয়নের কাজ করতে না পারলে সভাধিপতিকে পদ ছাড়তে হবে। অন্যদিকে বারাসত সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, সরকারি দফতরে কোনও রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। একই দলের দুই শিবিরের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

সোমবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীর অফিসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য সামনে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ফের জেলা পরিষদ চত্বরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।

এ দিন দুপুরে ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতৃত্ব জেলা পরিষদে পৌঁছে সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীর কাছে উন্নয়নমূলক কাজের হিসাব দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, জেলা পরিষদ এলাকায় একাধিক কাজ থমকে রয়েছে। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে প্রশাসনকে। তাঁদের বক্তব্য, দায়িত্ব সামলাতে না পারলে সভাধিপতির পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি কর্মী মিঠু চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, সোমবারের ভাঙচুরের ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল। তাঁর বক্তব্য, সভাধিপতি কাজ করতে না পারলে পদত্যাগ করা উচিত। যদিও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে তাঁর এই দাবি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।

অন্যদিকে, ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতৃত্বের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত হতে দেখা যায়নি বারাসত সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মীদের একাংশকে। জেলা পরিষদ চত্বরে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বারাসতের বিজেপি নেতৃত্বও সেখানে জমায়েত করেন। তাঁদের বক্তব্য, জেলা সদর শহরের ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। সরকারি দফতরে বিশৃঙ্খলা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ফলে জেলা পরিষদকে ঘিরে বিজেপির দুই শিবিরের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এক পক্ষ যেখানে সভাধিপতির কাজের হিসাব চেয়ে সরব, অন্য পক্ষ সেখানে সরকারি অফিসের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপরে জোর দিচ্ছে। এই ভিন্ন অবস্থানের পিছনে সাংগঠনিক মতপার্থক্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ দিকে জেলা পরিষদের কাজকর্ম, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সোমবারের ভাঙচুরের অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই নজর রয়েছে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ঘটনার তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য সামনে এলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved