
নিউজ ডেস্ক : খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর জলে ভেসে যাচ্ছিল মাত্র চার দিনের হাতির শাবক। চোখের সামনে সন্তানকে বিপদে পড়তে দেখে নদীর ওপারে দাঁড়িয়ে উদ্বিগ্ন মা হাতির ডাক। এমন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নেমে পড়লেন বনকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা হল দুধের শিশু হাতিটিকে।
ডুয়ার্সের মালবাজার এলাকায় বুধবার ভোরে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির জেরে নদীতে আচমকাই জল ও স্রোত বেড়ে যায়। সেই সময় হাতির একটি দল নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। তখনই দলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রবল স্রোতে ভেসে যায় সদ্যোজাত শাবকটি।
জলের তোড়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়ে একটি পাথরের খাঁজে আটকে যায় শাবকটি। স্রোতের মধ্যে বার বার ছটফট করতে দেখা যায় তাকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনদফতরের কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন।
উদ্ধারকাজের প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, প্রবল স্রোতের মধ্যেই বনকর্মীরা নদীতে নামছেন। দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শাবকটির কাছে পৌঁছন তাঁরা। এরপর তাকে আঁকড়ে ধরে ধীরে ধীরে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসা হয়।
তীরে তোলার পর শাবকটির শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও গুরুতর কোনও বিপদের কথা জানা যায়নি। তবে মাত্র চার দিন বয়স হওয়ায় শাবকটির জন্য মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখন বনদফতরের সামনে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ—শাবকটিকে তার মা ও হাতির দলের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া। এজন্য হাতির দলের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। ঘ্রাণ ও ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শাবকটির পালকে শনাক্ত করে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এমন উদ্ধার অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে পাহাড়ি নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই হাতির দলের গতিবিধির উপর নজর রাখছে বনদফতর।
মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের নানা ঘটনার মধ্যে মালবাজারের এই উদ্ধার অভিযান সামনে আনল অন্য এক ছবি। কয়েকজন বনকর্মীর দ্রুত সিদ্ধান্ত ও ঝুঁকি নেওয়ার কারণে আপাতত প্রাণে বেঁচেছে একটি সদ্যোজাত হাতি।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments