
নিউজ ডেস্ক; তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি মেনশন করা হয়। মমতার হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল। মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই মামলাটি শুনানির চেষ্টা করা হবে।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে যাওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের জেরে তৃণমূলের নাম এবং ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে দলের দুই পক্ষের মধ্যে নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সামনে শুনানিও হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি মেনশন করার সময় কপিল সিবাল দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। আদালতে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ফলে বিষয়টি দ্রুত আদালতের সামনে আনা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
মামলাটি মেনশন হওয়ার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, চলতি সপ্তাহেই শুনানির চেষ্টা করা হবে। অর্থাৎ সোমবারই মামলার মূল বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং দ্রুত শুনানির আবেদন আদালতের বিবেচনায় এসেছে এবং পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়া চলছিল। ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক স্থগিত করার পর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে আলাদা অন্তর্বর্তীকালীন নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচনের আবহে কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ় করা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে কপিল সিবাল কমিশনের সিদ্ধান্তের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দলের তরফে কমিশনের সামনে নিজেদের অবস্থান ও ব্যাখ্যা জানানো হয়েছিল। তারপরও নাম ও প্রতীক নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিবাল দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। ফলে মামলাটি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি আদালতকে জানান।
তবে সোমবারের মেনশনিংয়ে সুপ্রিম কোর্ট মামলার মূল বিতর্কের কোনও নিষ্পত্তি করেনি। প্রধান বিচারপতি শুধু জানান, চলতি সপ্তাহে শুনানির চেষ্টা করা হবে। ফলে এখন নজর থাকবে মামলাটি কবে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয় এবং শুনানির সময় দুই পক্ষের বক্তব্যের পর আদালত কী নির্দেশ দেয়।
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির—দুই পক্ষকেই নির্বাচন কমিশনের সামনে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ১২ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কোন পক্ষের হাতে থাকবে এবং কে তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, তা নিয়ে কমিশনের সামনে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছিল।
পরবর্তীতে কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পথে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পক্ষ করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির সম্ভাবনার কথা তখনই জানা গিয়েছিল।
এখন সোমবারের মেনশনিংয়ের পরে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। আদালত চলতি সপ্তাহে মামলাটি শুনবে কি না, শুনানি হলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কী প্রশ্ন ওঠে এবং দুই পক্ষের বক্তব্যের পর কী নির্দেশ দেওয়া হয়—সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।
তবে এখনও পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত বাতিল বা বহাল রাখার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি। ফলে মামলার পরবর্তী শুনানিই এই বিতর্কে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে চলেছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments