Homeজেলাথানার সামনেই বিজেপি-আইএসএফ সংঘর্ষের অভিযোগ, আহত পুলিশকর্মী-সহ চার

থানার সামনেই বিজেপি-আইএসএফ সংঘর্ষের অভিযোগ, আহত পুলিশকর্মী-সহ চার

নিউজ ডেস্ক; থানার সামনেই বিজেপি এবং আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। মাধবপুর থানা এলাকার ঝিঝিরআইটে এক বিজেপি কর্মীর উপর হামলার অভিযোগের পর থানায়
resizeplus_eisamay_2026-09-21_le5d7vtl_bhangar (1)

নিউজ ডেস্ক; থানার সামনেই বিজেপি এবং আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। মাধবপুর থানা এলাকার ঝিঝিরআইটে এক বিজেপি কর্মীর উপর হামলার অভিযোগের পর থানায় অভিযোগ জানাতে আসেন দলের নেতা-কর্মীরা। সেখানেই দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে এক পুলিশ অফিসার-সহ চার পুলিশকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সংঘর্ষের মধ্যে পথচলতি কয়েক জন সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

অভিযোগের সূত্রপাত ঝিঝিরআইট এলাকায়। বিজেপির দাবি, দলের কর্মী নাজমুল মোল্লার উপর আইএসএফ কর্মীরা হামলা চালান। ওই ঘটনায় নাজমুলের মাথায় আঘাত লাগে এবং মাথা ফেটে যায় বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে নলমুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসার পর বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে সঙ্গে নিয়ে মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে যান।

বিজেপির অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানাতে আসার পরেই পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। থানার সামনেই বিজেপি এবং আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে সেই বচসা হাতাহাতিতে গড়ায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করে। সেই সময় পুলিশকর্মীদের উপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক পুলিশ অফিসার-সহ মোট চার জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সংঘর্ষের মধ্যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ।

আইএসএফের পাল্টা দাবি

তবে বিজেপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। সংগঠনের নেতা সাহাবুদ্দিন সিরাজির পাল্টা দাবি, ঘটনার শুরু বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী হয়নি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কয়েক জনের নেতৃত্বে প্রথমে আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছিল।

আইএসএফের দাবি, সেই ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে তাঁদের কর্মীরা মাধবপুর থানায় এসেছিলেন। সেখানেই তাঁদের উপর ফের হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে আইএসএফেরও বেশ কয়েক জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলের নেতা-কর্মীরা।

ফলে ঘটনার প্রকৃত সূত্রপাত কোথায় এবং প্রথমে কারা হামলা চালিয়েছিল, তা নিয়ে দুই রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। পুলিশও আপাতত দুই পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

দু’পক্ষেরই থানায় অভিযোগ

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং আইএসএফ—দুই পক্ষই মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের সময় ঠিক কী ঘটেছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং কারা পুলিশের উপর হামলায় জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক স্থানের সামনে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ভাঙড়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা নতুন নয়। চলতি মাসের শুরুতেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলায় বিজেপি ও আইএসএফ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছিল। ওই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতারও করেছিল কয়েক জনকে এবং দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল।

ভাঙড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। মাধবপুর থানা ভাঙড় পুলিশ ডিভিশনের নতুন থানাগুলির মধ্যে অন্যতম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে থানাটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বে রয়েছে মাধবপুর থানা।

বর্তমান ঘটনায় আহত পুলিশকর্মীদের শারীরিক পরিস্থিতি এবং আরও কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। একই সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, সে বিষয়েও পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে থানার সামনেই দুই রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পুলিশকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগকে ঘিরে ভাঙড়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগোনোর পরেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কার কী ভূমিকা ছিল, তা স্পষ্ট হবে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved