Last updated: September 17th, 2026 at 02:12 pm

নিউজ ডেস্ক; প্রেমিকার মোবাইলে একটি ফোন। আর সেই ফোনকে কেন্দ্র করেই মুহূর্তে বদলে গেল পরিস্থিতি। পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণপল্লির একটি মেসে তরুণীকে খুনের ঘটনায় তদন্তে এমনই তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ধৃত অমিত মাহাতোর দাবি, প্রেমিকাকে খুন করার কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। পুলিশের কাছে তিনি নাকি বলেছেন, “ওকে আমি মারতে চাইনি স্যর, রাগের মাথায় হঠাৎই হয়ে গিয়েছে।” তবে ঘটনার পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ১৯ বছরের তরুণীর সঙ্গে অমিতের প্রায় আড়াই বছরের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। সেই সময় তরুণীর সঙ্গে অন্য এক যুবকের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ওই যুবক বর্তমানে উত্তরাখণ্ডে পড়াশোনা করছেন বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। সম্প্রতি অমিত ও তরুণীর সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক হওয়ার পথে ছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে রামকৃষ্ণপল্লির ওই মেসে দু’জনের দেখা হয়। মেস তখন ফাঁকা ছিল। কথাবার্তার মধ্যেই তরুণীর মোবাইলে উত্তরাখণ্ডে থাকা ওই যুবকের ফোন আসে। ফোনটি তিনি ধরেছিলেন কি না, তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছিল কি না—এই বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। তবে পুলিশের দাবি, মোবাইলে ওই যুবকের ফোন আসতে দেখেই অমিত উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এরপরই দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, জেরায় অমিত জানিয়েছেন, রাগের মাথায় তিনি মেসের ঘরে থাকা একটি সবজি কাটার ছুরি দিয়ে তরুণীর গলায় আঘাত করেন। পরে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণী নিথর হয়ে পড়ার পর পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন অভিযুক্ত—এমনটাই তদন্তকারীদের বক্তব্য।
এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশের অভিযোগ। প্রথমে মেসে থাকা একটি বস্তায় দেহ ঢোকানোর চেষ্টা করেন অমিত। কিন্তু বস্তাটি ছোট হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে মেসের কাছের একটি দোকান থেকে বড় আটার বস্তা কেনা হয়। ঘর জল দিয়ে পরিষ্কার করার পর দেহটি সেই বস্তায় ভরে বাইকের পিছনে বেঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুরুলিয়া শহরের দিকে ফেরার পথে বস্তা নিয়ে বাইক চালানোর সময় সন্দেহ হয় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। পরে অমিতকে আটক করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
তবে ঘটনার আরও কিছু দিক এখনও তদন্তাধীন। নিহত তরুণীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নয় পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সময় ঠিক কী হয়েছিল, তরুণীর মোবাইলে আসা ফোনের ভূমিকা কতটা এবং হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না—সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে ওই মেসের আবাসিকদের মধ্যেও। অনেকেই মেস ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য শহরে থাকা আবাসিকদের একাংশের বক্তব্য, ঘটনার পর ওই বাড়িতে থাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments