Homeনদিয়ারানাঘাটইতিহাসের বিস্মৃত নায়ক যদুনন্দন সিং ‘সাহেব’-কে স্মরণ, প্রকাশিত হল তথ্যচিত্র ও বই

ইতিহাসের বিস্মৃত নায়ক যদুনন্দন সিং ‘সাহেব’-কে স্মরণ, প্রকাশিত হল তথ্যচিত্র ও বই

নিউজ ডেস্ক ; ইতিহাসের পাতায় বহু পরিচিত নামের পাশাপাশি এমন কিছু ব্যক্তিত্বও রয়েছেন, যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সময়ের সঙ্গে অনেকটাই আড়ালে চলে গিয়েছে। সেই বিস্মৃত অধ্যায়কে নতুন করে সামনে আনার উদ্যোগ
WhatsApp Image 2026-09-16 at 2.00.54 AM (1)

নিউজ ডেস্ক ; ইতিহাসের পাতায় বহু পরিচিত নামের পাশাপাশি এমন কিছু ব্যক্তিত্বও রয়েছেন, যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সময়ের সঙ্গে অনেকটাই আড়ালে চলে গিয়েছে। সেই বিস্মৃত অধ্যায়কে নতুন করে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হল রানাঘাটে। ইতিহাসের নেপথ্যের অন্যতম রূপকার হিসেবে যদুনন্দন সিং ‘সাহেব’-এর সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনকল্যাণমূলক কাজ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত হল বিশেষ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল যদুনন্দন সিংয়ের অবদানকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং কলকাতা ও বাংলার সামাজিক-ভৌগোলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার পুনর্মূল্যায়ন করা। আয়োজকদের বক্তব্য, ইতিহাসের প্রচলিত আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের নাম থাকলেও যাঁদের কাজ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছিল, তাঁদের অনেকেরই যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।

উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯২৪ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে বোইনস্টলা ইউনিয়ন বোর্ডের সভাপতি নির্বাচিত হন যদুনন্দন সিং। সেই সময় কলকাতার ধাপা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল আবর্জনা ও বর্জ্যে পরিপূর্ণ। প্রায় ১৫ হাজার বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে থাকা সেই সমস্যাগ্রস্ত এলাকাকে কাজে লাগিয়ে বর্জ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি বলে অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়।

শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা কৃষির উন্নয়নেই তাঁর ভূমিকা সীমাবদ্ধ ছিল না। শ্রমজীবী এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতেও তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন বলে আয়োজকদের দাবি। বিহার, ওড়িশা এবং পুরুলিয়া-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষকে এনে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বসবাসের জন্য স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরিতেও তিনি ভূমিকা নিয়েছিলেন। খাতালবাড়ি ও বাউরি পাড়ার মতো বসতির বিকাশের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

সামাজিক কাজের পাশাপাশি স্বাধীনতা আন্দোলনেও যদুনন্দন সিংয়ের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা অনুষ্ঠানে স্মরণ করা হয়। মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে ১৯৩০, ১৯৩২ এবং ১৯৪২ সালের জাতীয় আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি কারাবরণ করেছিলেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়।

১৯৪৬ সালের কলকাতার সাম্প্রদায়িক হিংসার সময়ও তাঁর ভূমিকার কথা বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়, সেই অশান্ত পরিস্থিতিতে যদুনন্দন সিং ঝুঁকি নিয়ে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁর সেই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই ১৯৪৮ সালে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘ফার্স্ট ক্লাস সিটিজেন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

পরবর্তী সময়েও নিজের জন্মভূমি এবং আশপাশের এলাকার উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যদুনন্দন সিং। স্কুল, কলেজ, রেলওয়ে স্টেশন এবং থানা প্রতিষ্ঠার মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে তাঁর নেতৃত্বের কথা অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।

এই বিস্তৃত কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যদুনন্দন সিংয়ের জীবন ও কাজের উপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি প্রকাশিত হয় তাঁকে নিয়ে লেখা একটি বই। আয়োজকদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইতিহাসের এই অপেক্ষাকৃত অনালোচিত চরিত্র সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, সুশান্ত সিং, তমগ্ন ঘোষ, বইটির লেখক-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। যদুনন্দন সিংয়ের জীবন, সামাজিক উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক কাজ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তাঁর অবদানকে বৃহত্তর পরিসরে নথিভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

No Comments