Homeজেলাপুজোর আগে হাওড়ায় তারের জঞ্জাল সাফ, এক অভিযানে খুলল ১ কিমি বেআইনি তার! অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে পুরসভার বিশেষ উদ্যোগ

পুজোর আগে হাওড়ায় তারের জঞ্জাল সাফ, এক অভিযানে খুলল ১ কিমি বেআইনি তার! অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে পুরসভার বিশেষ উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক; একটির পর একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার শহরের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ঘিরে জমে থাকা তারের জঞ্জাল সরাতে সক্রিয় হল হাওড়া পুরসভা। দুর্গাপুজোর আগে শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা,
resizeplus_Screenshot 2026-09-14 145311_edited

নিউজ ডেস্ক; একটির পর একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার শহরের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ঘিরে জমে থাকা তারের জঞ্জাল সরাতে সক্রিয় হল হাওড়া পুরসভা। দুর্গাপুজোর আগে শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিকে আরও নিরাপদ করে তুলতে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে খুলে ফেলা হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা অব্যবহৃত ও অনুমোদনহীন তার। একই সঙ্গে পরিষেবা সচল রাখতে ব্যবহৃত তারগুলিকেও সুশৃঙ্খল ভাবে রাখার বিষয়ে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।

হাওড়া শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইন্টারনেট পরিষেবা, কেবল টেলিভিশন এবং অন্যান্য পরিষেবার জন্য বহু সংস্থার তার বিদ্যুতের খুঁটি ও রাস্তার উপরের পরিকাঠামোয় বছরের পর বছর ধরে ঝুলছে। নতুন পরিষেবা সংযোগের সঙ্গে সময়ের সঙ্গে তারের সংখ্যা বেড়েছে। কোথাও কোথাও একই খুঁটিতে এত বেশি তার জমেছে যে গোটা পরিকাঠামো কার্যত তারের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে।

এর ফলে শুধু শহরের সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছে না, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। তার ছিঁড়ে পড়া, শর্ট সার্কিট কিংবা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অন্য কোনও সমস্যার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বাজার বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাস্তার উপরে কিংবা বিদ্যুতের খুঁটিতে এলোমেলো ভাবে ঝুলে থাকা অসংখ্য তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল।

সম্প্রতি হাওড়া শহরে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তৎপর হয়েছে পুরসভা। দুর্গাপুজোর মরসুমে শহরের বিভিন্ন বাজার ও রাস্তায় ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই সময় বিদ্যুৎ পরিকাঠামো নিয়ে কোনও সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব আরও বড় হতে পারে। তাই উৎসব শুরু হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গাগুলি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই উদ্দেশ্যেই কয়েক দিন আগে হাওড়া পুরসভার উদ্যোগে একটি সমন্বয় বৈঠক হয়। সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থা, কেবল পরিষেবা সংক্রান্ত পক্ষ, সিইএসসি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা-সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দফতর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শহরের বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ পরিকাঠামোকে কী ভাবে আরও সুশৃঙ্খল করা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়।

বৈঠকে দু’টি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং বর্তমানে কোনও কাজে ব্যবহার হচ্ছে না—এমন অব্যবহৃত তার দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ভাবে লাগানো তারগুলিও চিহ্নিত করে অপসারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যে তারগুলি এখনও ইন্টারনেট, কেবল বা অন্য পরিষেবা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সেগুলিকে পরিকাঠামোয় স্থাপন করতে হবে।

পুরসভার তরফে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার বার্তাও দেওয়া হয়। বৈঠকের পর আর অপেক্ষা না করে মাঠে নামে পুরসভা। শহরের একাধিক এলাকায় শুরু হয় তারের জঞ্জাল সরানোর কাজ।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি অভিযানেই প্রায় এক কিলোমিটার অব্যবহৃত তার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ওই তারগুলির মোট ওজন ছিল প্রায় ৩০ কিলোগ্রাম। শুধু একটি এলাকা নয়, আগামী দিনে হাওড়ার আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একই ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পুরসভার এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দুর্গাপুজোর সময়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পুজোর দিনগুলিতে হাওড়ার বাজার, প্রধান রাস্তা এবং বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। কোথাও রাস্তার উপর ঝুলে থাকা তার ছিঁড়ে পড়লে বা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনও ত্রুটি দেখা দিলে মুহূর্তে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তার থেকেও বড় বিপদ হতে পারে শর্ট সার্কিট বা আগুন লাগার ঘটনায়।

পুরসভার আশঙ্কা, এলোমেলো ভাবে জমে থাকা তার শুধু অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনাই বাড়ায় না, জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। কোনও এলাকায় আগুন লাগলে দমকলকর্মীদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করতে হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হয়। বিদ্যুতের খুঁটিতে অসংখ্য তার জড়িয়ে থাকলে কোন সংযোগ কোন দিকে যাচ্ছে, তা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিদ্যুৎকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা তৈরি হতে পারে। কোনও সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলে মেরামতির জন্য সংশ্লিষ্ট তার চিহ্নিত করা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত তারের সঙ্গে সক্রিয় তার জড়িয়ে থাকলে কাজ আরও জটিল হয়ে যায়। তাই অব্যবহৃত তার সরানোর পাশাপাশি সক্রিয় তারগুলিকে সুশৃঙ্খল ভাবে সাজানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

শহরের সৌন্দর্যের বিষয়টিও এই অভিযানের সঙ্গে জড়িত। রাস্তার দু’পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে অসংখ্য তারের জট শুধু দৃষ্টিকটু নয়, নাগরিক পরিকাঠামোর উপরও চাপ তৈরি করে। পুরসভার লক্ষ্য, প্রয়োজনীয় পরিষেবার তার থাকবে, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় বা বেআইনি তারের স্তূপ আর থাকবে না।

বিশেষ করে পুজোর আগে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নাগরিকদের একাংশ। উৎসবের সময়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মণ্ডপ, রাস্তা এবং বাজার এলাকায় যেমন নজরদারি বাড়ানো হয়, তেমনই বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলিও আগে থেকে কমানো প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এ বার তারের জঞ্জাল সরানোর কাজে জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকেও নিজেদের ব্যবহৃত তার চিহ্নিত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। যে তার আর কাজে লাগছে না, তা ফেলে না রেখে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও যাতে ইচ্ছেমতো তার ঝুলিয়ে না রাখা হয়, সেই বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছে পুরসভা।

একটি অভিযানে এক কিলোমিটার তার সরানোর পরই অবশ্য অভিযান থেমে থাকছে না। পুরসভা সূত্রে খবর, আগামী দিনগুলিতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, বাজার এবং জনবহুল এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে নজরদারি চালানো হবে। কোথায় তারের জট বেশি, কোথায় ঝুঁকি বেশি, সেই অনুযায়ী এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাওড়া পুরসভার এই উদ্যোগের মূল বার্তা—‘নিরাপদ তার, নিরাপদ পুজো।’ অর্থাৎ উৎসবের আনন্দে যাতে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো কোনও বিপদের কারণ না হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যেই আগাম সতর্কতা। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুজোর সময়ে শহরের রাস্তাঘাটে যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা—এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এ বার হাওড়ায় তারের জঞ্জাল সাফাই অভিযানে জোর দেওয়া হচ্ছে।

দুর্গাপুজোর আগে শহর কতটা তারের জঞ্জালমুক্ত করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কতটা নিয়ম মেনে নিজেদের পরিকাঠামো সাজায়, এখন সেদিকেই নজর। কারণ উৎসবের ভিড়ে সামান্য অবহেলাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। সেই সম্ভাবনা আগেভাগেই কমাতে হাওড়া পুরসভার এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved