Last updated: September 10th, 2026 at 04:01 pm

নিউজ ডেস্ক: শ্রীরামপুরে মিছিল করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সেই মিছিলের বদলে সভার অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনেই সভা করতে হবে। সভায় নেতৃত্ব দেবেন তৃণমূলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বক্তব্য রাখার সময় এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না, যাতে কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষ মর্মাহত হন—এমনই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা অসিত মজুমদার। রাজ্যের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতেই ওই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মিছিল করার আবেদন জানানো হয়েছিল। মামলার শুনানিতে অবশ্য মিছিলের পরিবর্তে সভা করার প্রস্তাব দেয় আদালত। সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানান তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শ্রীরামপুরের জগন্নাথদেব স্থানপিঁড়ি ময়দানে সভা করা যাবে। তবে কর্মসূচির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত। দুপুর ১টা থেকে সভা শুরু করতে হবে এবং সর্বোচ্চ দুপুর ৩টের মধ্যে তা শেষ করতে হবে। অর্থাৎ মোট দু’ঘণ্টার মধ্যেই কর্মসূচি শেষ করতে হবে। সভায় সর্বাধিক ২ হাজার মানুষ উপস্থিত থাকতে পারবেন বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু জনসমাগমের সংখ্যা বা সময়ের ক্ষেত্রেই নয়, বক্তৃতার বিষয়বস্তু নিয়েও আদালত সতর্ক করেছে। সভায় এমন কোনও বক্তব্য দেওয়া যাবে না, যার জেরে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হন। রাজনৈতিক সভা হলেও বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে একক বেঞ্চ।
আদালত আরও জানিয়েছে, সভার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে যাতে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা খোলা রাখতে হবে। অর্থাৎ সভাস্থল ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে দিকে নজর রাখতে হবে প্রশাসনকে। পাশাপাশি আয়োজকদের তরফেও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে আদালত।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার মধ্যে সভার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে। সভাস্থলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে এই স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা থাকবে।
তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমে মিছিলের পরিকল্পনা থাকলেও আদালতের পরামর্শে সভার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, মিছিলের পরিবর্তে সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে পারবেন। ফলে কর্মসূচির মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বজায় থাকছে বলেই মনে করছে তৃণমূল শিবির।
তবে আদালতের একাধিক শর্তের কারণে এই সভা রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ভাবেও নজরকাড়া হতে চলেছে। এক দিকে মমতার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা প্রত্যাশা করছে তাঁর দল, অন্য দিকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বক্তব্য ও কর্মসূচির ধরন নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে আয়োজকদের।
বিশেষ করে কোনও গোষ্ঠীকে আঘাত করে এমন বক্তব্য না দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটানোর নির্দেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের অধিকার বজায় রেখেও যাতে আইনশৃঙ্খলা এবং জনজীবন স্বাভাবিক থাকে, সেই ভারসাম্যের উপরেই জোর দিয়েছে আদালত।
ফলে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে মিছিলের বদলে সভার মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী রাজনৈতিক বার্তা দেন, সেটাই এখন নজরে। একই সঙ্গে আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা, ২ হাজার মানুষের উপস্থিতির সীমা এবং বক্তব্যের ক্ষেত্রে দেওয়া সতর্কবার্তা কতটা কার্যকর ভাবে মানা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে প্রশাসনের।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments