Homeবাঁকুড়াসোনামুখীসাতসকালে নালা থেকে উদ্ধার ব্যক্তির দেহ, বাঁকুড়ার সোনামুখীতে

সাতসকালে নালা থেকে উদ্ধার ব্যক্তির দেহ, বাঁকুড়ার সোনামুখীতে

নিউজ ডেস্ক; সাতসকালে রাস্তার ধারের নালা থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার সোনামুখীতে। মঙ্গলবার সকালে সোনামুখী ব্লকের ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামাটি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মৃতের নাম উত্তম
resizeplus_Screenshot 2026-09-08 181146_edited

নিউজ ডেস্ক; সাতসকালে রাস্তার ধারের নালা থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার সোনামুখীতে। মঙ্গলবার সকালে সোনামুখী ব্লকের ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামাটি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মৃতের নাম উত্তম বাগদি (৪৫)। তিনি রাঙামাটির নামোপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে শৌচকর্ম করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন উত্তম। তাঁর হাতে ছিল টর্চ। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকালে পাড়ার বাসিন্দারা রাস্তার ধারে একটি নালায় দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দেহটি উত্তমের বলে শনাক্ত করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাঙামাটি এলাকায় ভিড় জমে যায়। স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক ও নানা প্রশ্ন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সোনামুখী থানার পুলিশ। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

নালায় কী ভাবে পড়লেন উত্তম?

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, সোমবার রাতে শৌচকর্ম সেরে জল নেওয়ার জন্য নালায় নেমেছিলেন উত্তম। সেই সময় কোনও ভাবে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি জলে পড়ে যেতে পারেন। টানা বৃষ্টির কারণে নালায় জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল। ফলে জলে পড়ার পর তিনি আর নালা থেকে উঠে আসতে পারেননি বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ।

তবে পুলিশের এই অনুমান এখনও নিশ্চিত নয়। উত্তম সত্যিই দুর্ঘটনাবশত নালায় পড়ে মারা গিয়েছেন, নাকি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নালার অবস্থান, জলের গভীরতা এবং আশপাশের পরিস্থিতি পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, উত্তমের সঙ্গে কারও কোনও বিরোধ ছিল কি না, কিংবা তাঁর মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাতেই নিখোঁজ, সকালে দেহ উদ্ধার

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। সোমবার রাতে উত্তম কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, কোথা দিয়ে গিয়েছিলেন এবং শেষ বার তাঁকে কোথায় দেখা গিয়েছিল—এই সব বিষয় জানার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, টানা বৃষ্টির জেরে এলাকার বিভিন্ন নালা ও নিচু জায়গায় জল বেড়েছে। অন্ধকারে টর্চ নিয়ে চলাফেরা করার সময় নালার অবস্থান বোঝা কঠিন হতে পারে। সেই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তদন্তে সোনামুখী থানার পুলিশ

পুলিশ জানিয়েছে, দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও ঘটনা—দুই সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উত্তমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকর্মীরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved