Last updated: September 5th, 2026 at 04:05 pm

নিউজ ডেস্ক; বাড়ির নীচের তলায় সরকারি অফিস। চারদিকে ফাইল, কম্পিউটার, কাগজপত্র। তারই মধ্যে ছাদ থেকে টপ টপ করে জল পড়ছে। কোথাও মেঝেতে জমছে জল, কোথাও আবার কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় নথি বাঁচাতে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এমন বেহাল দশা চুঁচুড়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তার অফিসে। বর্ষা বাড়লেই সমস্যা আরও প্রকট হয়। সরকারি দপ্তরের এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে এই অফিসের পরিকাঠামোর দিকে নজর দেওয়া হয়নি। যদিও বর্তমান যুগ্ম অধিকর্তার তরফে সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বাড়ির মালকিনকে জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চুঁচুড়ার বড়বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে চলছে শ্রম ও কর্মসংস্থান দপ্তরের এই অফিস। বেশ কয়েক বছর ধরেই ওই বাড়িতে সরকারি দপ্তরের কাজকর্ম চলছে। কিন্তু বাড়িটির ছাদ ও পরিকাঠামোর অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ। বর্ষাকালে ছাদ ফেটে জল পড়ে। কখনও মেঝেতে জল জমে যায়, কখনও আবার অফিসের ভিতরে থাকা কম্পিউটার, ফাইল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। ফলে কর্মীদের কাজ করতে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনই সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমানে চুঁচুড়া ও আরামবাগ—দুই জায়গার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন যুগ্ম অধিকর্তা ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে তিনি এই দায়িত্বে রয়েছেন। দুই জায়গায় অফিস সামলানোর পাশাপাশি চুঁচুড়ার অফিসের এই সমস্যার দিকেও নজর দিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, অফিসের পরিকাঠামো ঠিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যুগ্ম অধিকর্তা। বাড়ির মালকিনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।
অফিসের এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি দপ্তরে প্রতিদিনই বিভিন্ন কাজে মানুষ আসেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত পরিষেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষেরও এই অফিসে যাতায়াত রয়েছে। সেখানে যদি ছাদ থেকে জল পড়ে, মেঝে ভিজে থাকে, তা হলে কর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও কম্পিউটারের কাছে জল জমলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যায়।
বাড়ির মালকিন সোনালি পাল বলেন, “দোতলার ছাদ চাটুর মতো হয়ে আছে। জল জমে থাকছে। তাই জল পড়ছে। আমি বলেছি, ওটা ঠিক করে দেওয়া হবে।” তাঁর বক্তব্য, ছাদের উপরে জল জমে থাকার কারণেই নীচে জল পড়ছে। তিনি জানান, এই বাড়িতে আগে আরও কয়েকটি অফিস ছিল। সেগুলি উঠে গেলেও এখনও শ্রম ও কর্মসংস্থান দপ্তরের অফিসটি চলছে।
বাড়ির মালকিনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ছাদের সমস্যা সম্পর্কে তিনি অবগত। তবে কবে কাজ হবে, কী ভাবে হবে, এবং কত দিনের মধ্যে অফিসের এই বেহাল দশা কাটবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে বর্ষা বাড়লে ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও সরব হয়েছে। এলাকার বিজেপি নেতা সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই অফিস দেখেই বোঝা যাচ্ছে আগের সরকারের আমলে কোনও কাজ হয়নি। ঘরের মধ্যে জল পড়ছে। দেওয়াল স্যাঁতস্যাঁতে। যে কোনও সময়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুক।” তাঁর অভিযোগ, সরকারি অফিসের এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়নি।
তবে এই ঘটনায় একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—অফিসের সমস্যা সমাধানের জন্য বর্তমান যুগ্ম অধিকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। এখন সেই চিঠির ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেটাই দেখার। পাশাপাশি, বাড়ির মালকিনের তরফে ছাদ মেরামতির যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা কবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
সরকারি দপ্তরের পরিকাঠামো শুধু কর্মীদের কাজের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত নয়, সাধারণ মানুষের পরিষেবার সঙ্গেও জড়িত। তাই চুঁচুড়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান দপ্তরের এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ছাদ মেরামতি, জল পড়া বন্ধ করা, দেওয়ালের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব কাটানো এবং কম্পিউটার ও নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—সব দিকেই নজর দেওয়া দরকার।
বর্ষাকালে এমন সমস্যা নতুন নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই পরিস্থিতি যদি স্থায়ী ভাবে না মেটে, তা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বাড়ির মালকিনের মধ্যে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করার দাবি উঠেছে। আপাতত অফিসের কর্মী ও সাধারণ মানুষের নজর সেই দিকেই।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments