Last updated: September 8th, 2026 at 01:29 pm

নিউজ ডেস্ক; শিক্ষক দিবসের দিনেই সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বারুইপুরে। অভিযোগ, বেদি থেকে মূর্তিটি তুলে পাশের ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বারুইপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরের কাছে পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বিদ্যাসাগর শিশু উদ্যানেই ঘটেছে এই ঘটনা। বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা এবং শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের পথিকৃৎ বিদ্যাসাগরের মূর্তির এমন অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি, মূর্তিটি দ্রুত সসম্মানে নির্দিষ্ট জায়গায় পুনঃস্থাপনের দাবিও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ওই উদ্যানে বিদ্যাসাগরের মূর্তিটি বসানো হয়েছিল। তৎকালীন কাউন্সিলার মুজাফ্ফর আহমদ মূর্তিটির উন্মোচন করেছিলেন। সেই সময় শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের এই মহান ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উদ্যানে মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই সেই মূর্তির এমন পরিণতি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ, মূর্তিটি বেদি থেকে তুলে পাশের ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মূর্তিটি ভাঙা অবস্থায়ও রয়েছে। তবে কী ভাবে মূর্তিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেটি ভাঙচুর করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনও কারণে বেদি থেকে সরানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, উদ্যানের সামনের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন। এমন একটি জায়গায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি বেদি থেকে সরিয়ে ঝোপে ফেলে দেওয়া হল, অথচ বিষয়টি কেন কারও নজরে এল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং মূর্তিটির নিরাপত্তার বিষয়ে বারুইপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। তাঁদের দাবি, ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
শিক্ষক দিবসের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের নাম বিশেষ ভাবে জড়িত। বাংলা শিক্ষা, নারীশিক্ষা এবং সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। এমন এক দিনে তাঁর মূর্তি ঘিরে এই অভিযোগ সামনে আসায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীর মূর্তির প্রতি অসম্মানজনক আচরণ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মূর্তিটি যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, সেটিকে দ্রুত উদ্ধার করে যথাযথ মর্যাদায় পুনঃস্থাপন করা উচিত।
এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত দত্ত বলেন, “বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ভাবে শিক্ষার অপব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” তাঁর কথায়, শুধু মূর্তি সরিয়ে ফেলা বা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের তদন্তই নয়, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও প্রশাসনকে নজর দিতে হবে।
বাসিন্দাদের দাবি, পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঘটনার তদন্ত করা হোক। মূর্তিটি কী ভাবে বেদি থেকে সরানো হল, কখন ঘটনাটি ঘটেছে, এবং এর পিছনে কারও ভূমিকা রয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, উদ্যানের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেখানে মূর্তিটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ঘটনার পরও পুরসভা কর্তৃপক্ষের তরফে যথেষ্ট তৎপরতা দেখা যায়নি। তাঁদের বক্তব্য, একটি জনসাধারণের উদ্যানে স্থাপিত মনীষীর মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণ পুরসভার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুরসভা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
বিদ্যাসাগরের মূর্তি ঘিরে এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে। ২০২০ সালে যে মূর্তি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্থাপন করা হয়েছিল, তার এমন অবস্থা কী ভাবে হল, তা জানতে চাইছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে মূর্তিটি দ্রুত নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে উদ্যানের পরিবেশও স্বাভাবিক করা হোক।
বারুইপুরের এই ঘটনায় আপাতত তদন্তের দাবিই জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীর স্মৃতির প্রতি সম্মান বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব। তাই মূর্তি ভাঙার অভিযোগের পিছনে প্রকৃত ঘটনা কী, তা দ্রুত প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments