Homeজেলাবারুইপুর হাসপাতালে বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

বারুইপুর হাসপাতালে বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

eisamay_2026-10-01_mtk0pryf_crime-1

নিউজ ডেস্ক:হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। সোমবার বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে মৃত্যু হয় আজহারউল লস্করের। তাঁর বাড়ি জীবনতলা থানা এলাকায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাসপাতালের বাথরুমের ভিতর থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর চিকিৎসাধীন বন্দির নিরাপত্তা এবং পুলিশের নজরদারি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের বাথরুমে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর পিছনে আত্মহত্যার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

কীভাবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আজহারউল?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এক নাবালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগে আজহারউল লস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে বারুইপুর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।

জানা গিয়েছে, সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার পরের দিন, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সোমবার হাসপাতালের ভিতরে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর সামনে আসে।

বন্দির নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

হাসপাতালের মতো জায়গায় চিকিৎসাধীন এক বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন্দির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের নজরদারি যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্দির গতিবিধির উপর নজরদারি কীভাবে রাখা হচ্ছিল, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা কোথায় ছিলেন এবং বাথরুমে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল কি না—এমন একাধিক বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশের নজরদারিতে গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি। তদন্তের ফল প্রকাশের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা

ঘটনার পর পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একদিকে বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু, অন্যদিকে হাসপাতালে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থার কার্যকারিতা—দুই বিষয়ই এখন তদন্তের কেন্দ্রে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির পরেই মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved