Homeউত্তর ২৪ পরগনাখড়দহহেলমেট পরিয়েও রক্ষা মিলল না, সোমনাথকে লক্ষ্য করে ডিম-ইট ছোড়ার অভিযোগ

হেলমেট পরিয়েও রক্ষা মিলল না, সোমনাথকে লক্ষ্য করে ডিম-ইট ছোড়ার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক; ডিম, ইট ও পাটকেল ছোড়ার আশঙ্কা ছিল পুলিশের। সেই কারণে খড়দহ থানা থেকে বের করার সময় আরজি কর-কাণ্ডে
resizeplus_Screenshot 2026-09-04 152756_edited

নিউজ ডেস্ক; ডিম, ইট ও পাটকেল ছোড়ার আশঙ্কা ছিল পুলিশের। সেই কারণে খড়দহ থানা থেকে বের করার সময় আরজি কর-কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সোমনাথ দে-র মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তৈরি করা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তা বলয়ও। কিন্তু তার পরেও বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে রেহাই পেলেন না পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ। অভিযোগ, পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিমের পাশাপাশি ইট-পাটকেল ছোড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ঘটনায় কয়েক জন পুলিশকর্মীও সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার ভোরে বেঙ্গালুরু থেকে সোমনাথ দে-কে কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। বিমানবন্দর থেকে বৃষ্টির মধ্যেই তাঁকে খড়দহ থানায় নিয়ে যান তদন্তকারীরা। সেখানে পৌঁছনোর পর থেকেই থানার বাইরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত বাড়তে থাকে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হতেই থানার সামনে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। সোমনাথকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করার জন্য খড়দহ থানা থেকে বের করা হলে পরিস্থিতি আচমকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুলিশ সূত্রে খবর, আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল, অভিযুক্তকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা হামলার চেষ্টা করতে পারেন। সেই কারণেই তাঁকে থানার বাইরে আনার আগে মাথায় হেলমেট পরানো হয়। পাশাপাশি একাধিক পুলিশকর্মী তাঁকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন। কিন্তু সেই নিরাপত্তা ভেদ করেই বিক্ষোভকারীদের একাংশ ডিম, ইট ও পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন বলে অভিযোগ।

ঘটনার সময় থানার বাইরে স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। তাঁদের মধ্যে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল বলে দাবি পুলিশের। যদিও হামলার অভিযোগ নিয়ে বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশের বক্তব্য, বিক্ষোভের নামে আইন হাতে তুলে নেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অভিযুক্তকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনায় কয়েক জন পুলিশকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। যদিও তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে প্রাথমিক ভাবে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সোমনাথকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। কোনও রকমে তাঁকে প্রিজ়ন ভ্যানে তোলা হয়। এর পর কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে নিয়ে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশ।

সোমনাথ দে-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরজি কর-কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ভিত্তিতে। তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে বেশ কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘটনার পর তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ, নষ্ট হওয়া বা লোপাটের সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়গুলি তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, সোমনাথকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানাবে পুলিশ। আদালতে সেই আবেদন জানিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার সময় তাঁর অবস্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তবে আদালতের নির্দেশের পরই পরবর্তী তদন্তের গতিপথ স্পষ্ট হবে।

সোমনাথকে আদালতে পেশ করার আগে খড়দহ থানার বাইরে যে ভাবে বিক্ষোভ ছড়ায়, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাঁর বিচার আদালতেই হবে। পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা বা আক্রমণের চেষ্টা হলে তা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল থেকেই থানার বাইরে বিক্ষোভকারীদের ভিড় ছিল। সোমনাথকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সেই ভিড়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ডিম ও ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগ ওঠার পর দ্রুত নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। অভিযুক্তকে নিরাপদে গাড়িতে তোলার জন্য অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়।

ঘটনার পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কারা ইট-পাটকেল ছুড়েছেন, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে বলে জানা গিয়েছে। থানার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হতে পারে। হামলার ঘটনায় নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

এদিকে সোমনাথের গ্রেপ্তার ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। শাসকদল ও বিরোধী শিবির পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। তবে তদন্তকারীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোনো হবে। সোমনাথের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যায় না। আপাতত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

শুক্রবারের ঘটনার পর এখন নজর ব্যারাকপুর আদালতের দিকে। পুলিশ হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর হয় কি না, আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে—সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। একই সঙ্গে থানার বাইরে বিক্ষোভের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে আর অবনতি না হয়, সে জন্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved