Homeহাওড়াবেলগাছিয়াবেলগাছিয়া ভাগাড়ে ফের ধস, ঘরে ঢুকল কাদা-নোংরা জলের স্রোত

বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ফের ধস, ঘরে ঢুকল কাদা-নোংরা জলের স্রোত

resizeplus_Screenshot 2026-09-04 114105_edited

নিউজ ডেস্ক; বর্ষার জমা জলের মধ্যেই ফের বড়সড় ধস নামল হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড়ে। বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টে নাগাদ লিলুয়া থানার অন্তর্গত হরিশ কলোনি সংলগ্ন এলাকায় আচমকাই বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ও মাটির স্তূপ নীচে ধসে পড়ে। ধসের সঙ্গে জমে থাকা কাদা ও নোংরা জলের প্রবল স্রোত ঢুকে পড়ে আশপাশের একাধিক বাড়িতে। কোথাও দেওয়ালে ফাটল, কোথাও আবার বাথরুমের অংশ ভেঙে পড়েছে। ঘরের ভিতরের আসবাব ও অন্যান্য জিনিসপত্রও তছনছ হয়ে যায়।

আচমকা এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। প্রাণ বাঁচাতে বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্য ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধস নামার আগে তাঁরা নিজেদের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আচমকা বিকট শব্দে মাটি ও আবর্জনার স্তূপ নীচে নেমে আসতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

জমা জলের উপরেই ধস?

স্থানীয়দের বক্তব্য, বেলগাছিয়া ভাগাড়ের হরিশ কলোনির দিকে থাকা আবর্জনার স্তূপের নীচে আগে থেকেই জল জমে ছিল। সেখানে ছোট জলাশয়ের মতো একটি অংশও তৈরি হয়েছিল। তাঁদের দাবি, জমে থাকা সেই জলের উপরেই হঠাৎ করে মাটির বড় বড় চাঙড় এবং আবর্জনার স্তূপ এসে পড়ে। তার জেরে কাদা ও নোংরা জলের স্রোত আশপাশের বাড়িগুলিতে ঢুকে যায়।

তবে ধসের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। জমা জল, আবর্জনার স্তূপের চাপ এবং মাটির স্থিতিশীলতা—কোনওটি বা একাধিক কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার সময়ে ভাগাড়ের আশপাশে জল জমে থাকায় বিপদের আশঙ্কা বাড়ে।

ঘরছাড়া একাধিক পরিবার

ধসের জেরে বেশ কয়েকটি পরিবার কার্যত ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে। কারও ঘরের দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, কারও বাথরুমের অংশ ভেঙে পড়েছে। ঘরের ভিতরে কাদা ও নোংরা জল ঢুকে যাওয়ায় আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রীও নষ্ট হয়েছে বলে বাসিন্দাদের দাবি।

বর্ষার মধ্যে এই পরিস্থিতিতে রাত কাটাবেন কী ভাবে, তা নিয়েই উদ্বেগে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি। যাঁরা ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছেন, তাঁদের অনেকেরই এখন নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন। তবে আপাতত কোথায় তাঁদের রাখা হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

ঘটনাস্থলে পুলিশ

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লিলুয়া থানার পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশ এবং পিসি পার্টির একটি দল এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। আরও ধস নামার আশঙ্কা থাকায় ভাগাড়ের আশপাশে থাকা বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। প্রয়োজনে বাড়ি থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধসের পর বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আরও মাটি বা আবর্জনা নেমে আসার সম্ভাবনা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আগেও ধস নেমেছিল

বেলগাছিয়া ভাগাড়ে এর আগেও বড়সড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মাস আগেও সেখানে ধস নেমেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে ফের একই ধরনের বিপর্যয় ঘটায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, বর্ষার সময়ে ভাগাড়ের আশপাশে জমা জল এবং আবর্জনার স্তূপের অবস্থার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বসতবাড়ির কাছাকাছি এলাকায় ধসের ঝুঁকি থাকলে আগাম সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তবে এবারের ধসের সঙ্গে আগের ঘটনার কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর না থাকলেও একাধিক বাড়িতে ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। দেওয়ালে ফাটল, বাথরুমের অংশ ভেঙে পড়া এবং ঘরের ভিতরে জল ঢোকার মতো পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের বাড়ি ধসের কাছাকাছি, তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

প্রশাসনের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং আরও ধসের আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি, ভাগাড়ের আশপাশে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়

বৃহস্পতিবারের ধসের ঘটনায় ঠিক কতগুলি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও প্রকাশ্যে জানা যায়নি। কতগুলি পরিবারকে সাময়িক ভাবে ঘর ছাড়তে হয়েছে, বা তাঁদের জন্য কোনও বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য মেলেনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধসের ফলে তাঁদের ঘরবাড়ি ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে প্রশাসনিক পরিদর্শন প্রয়োজন। সেই পরিদর্শনের পরই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

নজরে বর্ষার পরিস্থিতি

বর্ষাকালে জল জমে থাকা এলাকা, মাটির স্তূপ এবং আবর্জনার ভাগাড়ের মতো জায়গায় ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বেলগাছিয়ার ঘটনায়ও জমা জল এবং আবর্জনার স্তূপের অবস্থাকে ঘিরে স্থানীয়দের উদ্বেগ সামনে এসেছে। তবে ধসের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

এখন নজর থাকবে, প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভাগাড়ের আশপাশে আরও ধস ঠেকাতে কী পদক্ষেপ করা হয়। আপাতত পুলিশ বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। তবে বর্ষার মধ্যে ঘরছাড়া পরিবারগুলির নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

No Comments

    আরও পড়ুন

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved