Homeউত্তর ২৪ পরগনাবারাসতশাসনস্কুলে যাওয়ার পথে নাবালিকা নিখোঁজ, ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

স্কুলে যাওয়ার পথে নাবালিকা নিখোঁজ, ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

resizeplus_Screenshot 2026-09-04 112848_edited

নিউজ ডেস্ক; উত্তর ২৪ পরগনার শাসনে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম দেলাবুর আলি (২০)। তাঁর বাড়ি শাসনের ফলতি-বেলিয়াঘাটা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তে সন্ডালিয়া এলাকা থেকে ১৫ বছরের ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই কিশোরী। কিন্তু স্কুল ছুটির পরেও সে বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজন প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেন। বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান চালিয়েও মেয়েটির হদিশ না মেলায় রাতেই শাসন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্ডালিয়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দেলাবুর আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাইকে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃত যুবক অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশকে সে জানিয়েছে, বিকেলের দিকে বাইকে করে কিশোরীকে নিয়ে পালায়। পরে সন্ডালিয়া স্টেশনের কাছে ছিল। সেখানেই একটি শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

তবে পুলিশের এই দাবি তদন্তের অংশ। আদালতে অভিযোগের বিচার এখনও হয়নি। ধৃতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হবে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায়।

আদালতে পুলিশ হেফাজত

বৃহস্পতিবার দেলাবুর আলিকে বারাসত আদালতে তোলা হয়। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। শুনানির পর বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

তদন্তকারীরা এখন ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম খতিয়ে দেখছেন। কিশোরীকে কী ভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কোথায় কোথায় রাখা হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

নিখোঁজের অভিযোগের পর উদ্ধার

এই ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নাবালিকাকে উদ্ধার করার পর তাঁর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি কিশোরীর বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে।

তদন্তে আরও কী কী খতিয়ে দেখা হচ্ছে?

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের পরই নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। তবে অভিযোগ দায়েরের পর ঠিক কত সময়ের মধ্যে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত স্থানগুলি চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানা গিয়েছে।

অভিযুক্তের ব্যবহৃত বাইক, সন্ডালিয়া স্টেশনের আশপাশের এলাকা এবং অভিযোগে উল্লিখিত স্থানগুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে পুলিশ এখনও এই বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ বা উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর কথা জানায়নি। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই ধরনের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, কিশোরীকে উদ্ধার করার পর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা আইনানুগ পদ্ধতিতে যাচাই করা হবে। অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই জানিয়েছে পুলিশ।

আদালতের নির্দেশের পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ

ধৃতকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর ফলে তদন্তকারীদের হাতে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ এসেছে। তবে পুলিশ হেফাজত মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।

এখন পুলিশের সামনে মূলত দু’টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, কিশোরীর অভিযোগের সঙ্গে ধৃতের বক্তব্যের সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখা। দ্বিতীয়ত, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত কি না, তা যাচাই করা। পাশাপাশি, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত কিশোরীর গতিবিধি এবং অভিযুক্তের ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

শাসন থানার এই ঘটনায় নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। তবে আপাতত পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়েছে।

নারী ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্ন

এই ঘটনা ফের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কোনও কিশোরী নিখোঁজ হলে দ্রুত পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ জানানো এবং পুলিশি তদন্ত শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়া প্রয়োজন।

শাসনের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ এবং মামলার পরবর্তী অগ্রগতি আদালতের প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved