Homeরাজ্য৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরভোট? প্রথম দফায় ৮ পুরসভায় ভোটের সম্ভাবনা, নজরে ২০২৭-এর শিলিগুড়ি-দুর্গাপুর

৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরভোট? প্রথম দফায় ৮ পুরসভায় ভোটের সম্ভাবনা, নজরে ২০২৭-এর শিলিগুড়ি-দুর্গাপুর

নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে ফের পুরভোটের প্রস্তুতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এক দফার পুরভোটের
resizeplus_Untitled Design (7)

নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে ফের পুরভোটের প্রস্তুতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এক দফার পুরভোটের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যে এগোতে পারে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণ থেকে ফলপ্রকাশ—পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই প্রথম দফার ভোট হতে পারে বলে জল্পনা।

প্রথম দফায় কোন কোন পুরসভায় ভোট হতে পারে, তা নিয়েও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কার্শিয়ং এবং কালিম্পং—এই আট পুরসভাকে সম্ভাব্য তালিকায় রাখা হয়েছে। যদিও ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ বা পুরসভাভিত্তিক আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি। ফলে আপাতত গোটা বিষয়টি কমিশনের প্রস্তুতি ও সূত্রের খবরের উপরেই নির্ভর করছে।

ভোটের সম্ভাব্য সময় নিয়েও তৈরি হয়েছে নির্দিষ্ট ছবি। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোটগ্রহণ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে খবর। এরপর গণনা, ফলপ্রকাশ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা মিলিয়ে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে কমিশন। সেই হিসাবে ৭ ডিসেম্বরকে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভোটার তালিকা নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সূত্রের খবর, পুরভোটে ১ জুলাই প্রকাশিত ইলেক্টোরাল রোল ব্যবহার করা হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশের অপেক্ষা রয়েছে। ভোটের প্রস্তুতির সঙ্গে তালিকা, বুথ, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোর বিষয়গুলিও ধাপে ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই প্রস্তুতির মধ্যেই বুধবার রাজ্যের সমস্ত জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। পুরভোটকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। কমিশনের এই বৈঠক ঘিরেই ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।

তবে পুরভোটের ছবিটা শুধু ডিসেম্বরেই থেমে থাকছে না। পরবর্তী পর্যায়েও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় ভোট হতে পারে বলে খবর। বিশেষ করে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শিলিগুড়ি ও দুর্গাপুরে পুরভোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথম দফার পর কয়েক মাসের ব্যবধানেই ফের পুরভোটের ময়দানে নামতে হতে পারে রাজনৈতিক দলগুলিকে।

এর মধ্যেই শিলিগুড়ি ও দুর্গাপুর পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। পুনর্বিন্যাসের জেরে দুই পুরসভা মিলিয়ে মোট ২৬টি ওয়ার্ড বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। যদি সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়, তা হলে আগামী পুরভোটে রাজনৈতিক দলগুলির হিসাব-নিকাশও অনেকটাই বদলে যেতে পারে। নতুন ওয়ার্ডের সীমানা, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ—সবকিছু নিয়েই নতুন করে কৌশল সাজাতে হবে দলগুলিকে।

একদিকে ডিসেম্বরের সম্ভাব্য আট পুরসভার ভোট, অন্যদিকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ শিলিগুড়ি ও দুর্গাপুরের সম্ভাব্য নির্বাচন—সব মিলিয়ে রাজ্যের পুররাজনীতিতে ফের ব্যস্ততা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের বাইরে পুরভোটে স্থানীয় ইস্যু, নাগরিক পরিষেবা, রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং শহরের পরিকাঠামোর মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে পুরসভা দখলের লড়াইয়ে রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি স্থানীয় সংগঠনগুলির ভূমিকাও নজরে থাকবে।

এরই মধ্যে আরও একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—পুরভোটে NCPI কোন দলের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটবে? সূত্রের খবর, বিজেপির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান এবং জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আবু তাহেরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, এই মুহূর্তে NCPI-কে নিয়ে তাঁরা ভাবছেন না। ফলে পুরভোট যত এগোবে, জোটের অঙ্ক এবং প্রার্থী সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।

রাজ্য রাজনীতিতে পুরভোট বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শহর ও মফস্‌সলের স্থানীয় প্রশাসন সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পুরসভা নির্বাচনে শুধু দলীয় প্রতীক নয়, স্থানীয় জনপ্রিয়তা, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এবং নাগরিক পরিষেবার প্রশ্নও বড় ভূমিকা নেয়। আট পুরসভায় যদি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হয়, তা হলে তার আগেই রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রার্থী বাছাই থেকে প্রচার কৌশল—সবকিছু চূড়ান্ত করতে হবে।

তবে এখনই নিশ্চিত করে ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের বৈঠক এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রস্তুতির পরই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রথম দফার ভোটপর্ব শেষ হলে তার পরেই নজর যাবে ২০২৭ সালের সম্ভাব্য পুরভোটগুলির দিকে।

অর্থাৎ রাজ্যের পুররাজনীতিতে সামনে আসতে চলেছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হলে ডিসেম্বরেই আট পুরসভার ফলাফল, আর কয়েক মাস পরেই শিলিগুড়ি ও দুর্গাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে সম্ভাব্য ভোট। এখন প্রশ্ন একটাই—এই পুরভোটের ময়দানে শেষ হাসি হাসবে কে? কোন দলের হাতে যাবে শহরের পুরবোর্ডের নিয়ন্ত্রণ? উত্তর মিলবে ভোটের দিনক্ষণ এবং ফলপ্রকাশের পরই।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved