Homeখেলাতাইকোন্ডোয় ফের বীরভূমের জয়জয়কার, রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপে ৮ সোনা-সহ ১৯ পদক

তাইকোন্ডোয় ফের বীরভূমের জয়জয়কার, রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপে ৮ সোনা-সহ ১৯ পদক

resizeplus_Screenshot 2026-09-02 135208_edited

নিউজ ডেস্ক; তাইকোন্ডোর মঞ্চে ফের সাফল্যের মুখ দেখল বীরভূম। রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় জেলার একাধিক প্রতিযোগীর নজরকাড়া পারফরম্যান্সে এ বার এল আটটি সোনা-সহ মোট ১৯টি পদক। বেঙ্গল তাইকোন্ডো অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনায় আয়োজিত ৩৩তম কিয়ারুগি ও ১৩তম পুমসে স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে এই সাফল্য অর্জন করেছেন বীরভূমের প্রতিযোগীরা। সোনা, রুপো এবং ব্রোঞ্জ—তিন বিভাগেই পদক জিতে জেলার নাম উজ্জ্বল করেছেন তাঁরা।

গত ২৮ অগস্ট থেকে টানা তিন দিন ধরে এই রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় উত্তর ২৪ পরগনার ‘তরুণের স্বপ্ন ইন্ডোর কমপ্লেক্সে’। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান তাইকোন্ডো খেলোয়াড়েরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সাব-জুনিয়র, ক্যাডেট, জুনিয়র এবং সিনিয়র—এই চারটি বিভাগে মোট ১৮টি জেলার ৪৮৪ জন প্রতিযোগী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এই বড় মাপের রাজ্য প্রতিযোগিতায় বীরভূম ডিস্ট্রিক্ট তাইকোন্ডো অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে অংশ নেন মোট ৪২ জন প্রতিযোগী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ২২ জন ছেলে এবং ২০ জন মেয়ে। অল্প বয়সী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি অভিজ্ঞ প্রতিযোগীরাও বিভিন্ন ইভেন্টে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯টি পদক ঘরে তুলে বীরভূমের দল।

জেলার হয়ে সোনার পদক জেতেন সোনালি মার্ডি, রিতম মণ্ডল, শৈলসুতা পাত্র, সুপ্রতীক চট্টোপাধ্যায়, রিমি দাস, শকুন্তলা মাইতি, অদ্রিস বিশ্বাস এবং তৃষ্ণা মাল। আট প্রতিযোগীর এই সাফল্যকে দলের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্য স্তরের কঠিন প্রতিযোগিতায় একাধিক ইভেন্টে নিজেদের দক্ষতা ও নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে তাঁরা সেরার সম্মান ছিনিয়ে নেন।

সোনার পাশাপাশি রুপোর পদকও এসেছে বীরভূমের ঝুলিতে। আয়ুষ ঘোষ, নওরিন ইসলাম এবং সাথী মাহারা তাঁদের নিজ নিজ বিভাগে রুপোর পদক অর্জন করেছেন। ফাইনাল কিংবা পদক জয়ের লড়াইয়ে সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে পড়লেও তাঁদের পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে।

ব্রোঞ্জ পদকের তালিকাতেও রয়েছে একাধিক জেলার প্রতিযোগীর নাম। আঁখি সরেন, দেবদ্রিতা দাস, রসিক টুডু, সৌমজিৎ ঘোষ, অঙ্কিতা ঘোষ, আরাধ্যা বিশ্বাস, সানভি পাল এবং শিবাঙ্গি চট্টোপাধ্যায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন। ফলে ৮টি সোনা, ৩টি রুপো এবং ৮টি ব্রোঞ্জ—সব মিলিয়ে বীরভূমের ঝুলিতে এসেছে মোট ১৯টি পদক।

এই সাফল্যের পিছনে প্রতিযোগীদের নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রশিক্ষকদের পরিকল্পিত প্রস্তুতির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন দলের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তারা। তাইকোন্ডোর মতো খেলায় শুধু শারীরিক সক্ষমতা থাকলেই সাফল্য পাওয়া যায় না। প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, ভারসাম্য, নির্ভুল কৌশল, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক দৃঢ়তা। রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় একের পর এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করে পদক জয় সেই প্রস্তুতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বীরভূমের দলটির সঙ্গে পরিচালক হিসেবে ছিলেন লক্ষ্মীনারায়ণ ভগত। কোচ হিসেবে দলের দায়িত্বে ছিলেন বীরভূম ডিস্ট্রিক্ট তাইকোন্ডো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বুদ্ধিশ্বর মণ্ডল এবং কোচ ঈশিতা চট্টোপাধ্যায়। প্রতিযোগিতার আগে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, বিভিন্ন ইভেন্টে তাঁদের অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতার সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দলের প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কাছে এ বারের সাফল্যের একটি বিশেষ দিক হল, কয়েকজন প্রতিযোগী এই প্রথম কোনও বড় মাপের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই পদক জিতেছেন। ফলে ভবিষ্যতে তাঁদের আরও বড় মঞ্চে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন প্রশিক্ষকেরা।

দলের তরফে জানানো হয়েছে, নতুনদের জন্য প্রথম প্রতিযোগিতায় নামার অভিজ্ঞতা সব সময়ই কঠিন। প্রতিযোগিতার পরিবেশ, দর্শকের উপস্থিতি, একের পর এক ম্যাচ এবং প্রতিপক্ষের চাপ—সব কিছু সামলে নিজেদের স্বাভাবিক পারফরম্যান্স করা সহজ নয়। সেখানে প্রথমবার নেমেই পদক জেতা তাঁদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।

প্রশিক্ষকদের বক্তব্য, এই সাফল্য শুধু পদকের হিসাব নয়। বীরভূমে তাইকোন্ডোর প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহও ক্রমশ বাড়ছে। ছেলে ও মেয়ে—দুই বিভাগেই খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ সেই ছবিই তুলে ধরছে। বিশেষ করে জেলার মেয়েদের একাধিক পদক জয়কে উৎসাহজনক বলে মনে করছেন অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা।

রাজ্য প্রতিযোগিতায় ১৮টি জেলার প্রায় পাঁচশো প্রতিযোগীর মধ্যে বীরভূমের ৪২ জনের অংশগ্রহণও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ফলে জেলার খেলোয়াড়েরা তাঁদের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলি আরও ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বারের সাফল্যকে আগামী দিনের প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবেই দেখতে চাইছেন বীরভূমের কোচেরা। যাঁরা সোনা জিতেছেন, তাঁদের আরও বড় প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা যেমন লক্ষ্য, তেমনই রুপো ও ব্রোঞ্জজয়ীদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করার উপরেও জোর দেওয়া হবে। প্রথম বার প্রতিযোগিতায় নেমে যারা পদক পেয়েছেন, তাঁদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাজ্য ও জাতীয় স্তরের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তাইকোন্ডোর কিয়ারুগি এবং পুমসে—দুই ধরনের ইভেন্টেই প্রতিযোগীদের দক্ষতা যাচাই হয়। কিয়ারুগিতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের মাধ্যমে কৌশল, গতি ও আক্রমণ-প্রতিরোধের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য দিকে পুমসে-তে নির্দিষ্ট কৌশল ও মুভমেন্ট নিখুঁত ভাবে প্রদর্শন করতে হয়। ফলে দুই বিভাগেই সাফল্য পাওয়া বীরভূমের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্যও উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় আয়োজিত এই রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ বীরভূমের তাইকোন্ডো দলকে এনে দিয়েছে একগুচ্ছ সাফল্য। আটটি সোনা-সহ ১৯টি পদক নিয়ে জেলা ফিরেছে দল। আর প্রথম প্রতিযোগিতাতেই কয়েকজনের পদক জয় আগামী দিনের জন্য আরও বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে। প্রশিক্ষকদের কথায়, এই সাফল্যই খেলোয়াড়দের আরও কঠোর অনুশীলনে উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় স্তরের মঞ্চে বীরভূমের প্রতিনিধিত্ব করার পথ আরও প্রশস্ত করবে।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved