Homeরাজ্যবঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপে বদল আবহাওয়ার ছক! দক্ষিণে বৃষ্টি কমলেও বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় লাল সতর্কতা

বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপে বদল আবহাওয়ার ছক! দক্ষিণে বৃষ্টি কমলেও বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় লাল সতর্কতা

নিউজ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প ঢুকছে পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে। তার
ezgif-sixteen_nine_161

নিউজ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প ঢুকছে পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে। তার জেরেই একদিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত মিললেও অন্যদিকে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলা—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ। কয়েকটি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সতর্ক করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

মঙ্গলবার প্রকাশিত আবহাওয়া দফতরের শেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল এবং সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড ও উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকার উপর অবস্থান করছে। নিম্নচাপের অবস্থানের কারণে সমুদ্র থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বাতাস স্থলভাগের দিকে প্রবেশ করছে। সেই জলীয়বাষ্পই বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে।

দক্ষিণবঙ্গে বুধবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা সামান্য কমতে পারে বলে পূর্বাভাস। তবে বৃষ্টি একেবারে থেমে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। তার সঙ্গে কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকছে। বিশেষ করে বীরভূম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে বুধবারও বৃষ্টির দাপট দেখা যেতে পারে।

মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাঁকুড়া, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া এবং কলকাতায় বৃষ্টির তীব্রতা ছিল উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলারও কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফলে একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় স্বাভাবিক জনজীবনেও প্রভাব পড়ে।

তবে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। বুধবারের পর দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা আরও কমতে পারে। আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জায়গায় মূলত বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিই চলবে। অর্থাৎ একটানা ভারী বৃষ্টির বদলে কখনও মেঘলা আকাশ, কখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টি, আবার কোনও কোনও এলাকায় আচমকা বৃষ্টির পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের মধ্যেই নজর এখন উত্তরবঙ্গের দিকে। বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে পরিস্থিতি বিশেষভাবে নজরে রাখা হচ্ছে। পাহাড়ি ও ডুয়ার্স সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে স্থানীয় নদী-নালা, ঝোরা এবং পাহাড়ি পথগুলিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা থাকছে।

শুক্রবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে ওই দুই জেলায় প্রশাসনের তরফেও আগাম প্রস্তুতি রাখার প্রয়োজন রয়েছে। টানা বৃষ্টি হলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া, রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং পাহাড়ি এলাকায় ধসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই বৃষ্টির প্রভাব ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাগুলির পাশাপাশি ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে থাকা পর্যটকদেরও আবহাওয়ার আপডেট দেখে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি।

অন্যদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাতেও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দমকা হাওয়ার সঙ্গে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খবর নিয়ে তবেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কলকাতাতেও বৃষ্টির দাপটের ছবি দেখা গিয়েছে মঙ্গলবার। সকাল থেকেই মহানগর এবং সংলগ্ন এলাকায় একাধিক দফায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তায় জল জমেছে, আবার কোথাও বৃষ্টির সঙ্গে মেঘলা আকাশ ও দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যান চলাচলেও তার প্রভাব পড়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির চরিত্র মূলত হালকা থেকে মাঝারি হতে পারে। অর্থাৎ দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব ধীরে ধীরে দুর্বল হলেও বাতাসে থাকা বিপুল জলীয়বাষ্পের কারণে বৃষ্টি পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না।

সব মিলিয়ে আবহাওয়ার ছবিতে আপাতত একটি উল্টো স্রোত দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে যেখানে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির পর ধীরে ধীরে স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেখানে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বাড়তে চলেছে বৃষ্টির দাপট। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের জন্য শুক্রবারের পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। তাই উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার সরকারি সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved