Homeহাওড়াবাকসাড়াবাকসাড়া রেলগেটের যানজট থেকে মুক্তি, বেতড়ের মাঝে তৈরি হচ্ছে আন্ডারপাস

বাকসাড়া রেলগেটের যানজট থেকে মুক্তি, বেতড়ের মাঝে তৈরি হচ্ছে আন্ডারপাস

Screenshot 2026-08-27 122848

নিউজ ডেস্ক; দীর্ঘদিনের যানজটের দুর্ভোগ থেকে এবার মুক্তির পথে হাওড়ার বাকসাড়া ও বেতড় এলাকার বাসিন্দারা। ট্রেন চলাচলের সময় বাকসাড়া রেলগেট দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই তৈরি হয় তীব্র যানজট। অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা—সমস্যায় পড়েন সকলেই। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয় অ্যাম্বুল্যান্স, দমকলের মতো জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলিকে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে অবশেষে উদ্যোগী হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। বাকসাড়া ও বেতড়ের মাঝে তৈরি হতে চলেছে একটি আন্ডারপাস।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার মরশুম শেষ হওয়ার পর অক্টোবরের শুরু থেকেই আন্ডারপাস তৈরির মূল কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র এলাকায় পৌঁছতে শুরু করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে আন্ডারপাস তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

বাকসাড়া রেলগেট হাওড়ার এই অংশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই রেলগেট দিয়ে বহু মানুষ যাতায়াত করেন। রেললাইনের ওপারে রয়েছে বেতড়। ট্রেন চলাচলের সময় নিরাপত্তার কারণে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু একের পর এক ট্রেন চলাচল করলে দীর্ঘ সময় ধরে গেট বন্ধ থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় রেলগেটের দু’দিকে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। কখনও কখনও সেই যানজট আশপাশের রাস্তাতেও ছড়িয়ে পড়ে।

নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অফিসের ব্যস্ত সময়ে রেলগেট বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। যানজটে আটকে পড়ে সাধারণ গাড়ি, বাস, টোটো থেকে শুরু করে পণ্যবাহী যানও।

তবে সাধারণ যানবাহনের তুলনায় সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক সময় অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের গাড়িও রেলগেট বন্ধ থাকায় আটকে পড়ে। জরুরি পরিস্থিতিতে কয়েক মিনিটের বিলম্বও যেখানে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, সেখানে দীর্ঘক্ষণ রেলগেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

করোনার সময় রেলগেটের যানজটে আটকে কয়েক জন রোগীর মৃত্যু হয়েছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের। যদিও এই ধরনের ঘটনার নির্দিষ্ট প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশ্যে না এলেও, দীর্ঘদিন ধরে জরুরি পরিষেবার গাড়ির চলাচলে এই রেলগেট বড় বাধা হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছেন বাসিন্দারা।

সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি ছিল, এমন একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা হোক যাতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রেখেই যানবাহন রেললাইন পারাপার করতে পারে। রেলগেটের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য আন্ডারপাস তৈরির দাবিও ওঠে।

শেষ পর্যন্ত সেই দাবিতেই সাড়া দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। বাকসাড়া ও বেতড়ের মাঝামাঝি এলাকায় আন্ডারপাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রেলগেট বন্ধ থাকার কারণে তৈরি হওয়া যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রেন চলাচলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের সমন্বয়ও সহজ হবে।

আন্ডারপাস চালু হলে জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলির জন্যও বড় সুবিধা হবে। অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল বা অন্য কোনও জরুরি যানবাহনকে আর ট্রেন পারাপারের জন্য রেলগেট খোলার অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। ফলে দুর্ঘটনা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনোর সুযোগ বাড়বে।

রেলের তরফে ইতিমধ্যেই নির্মাণকাজের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, বাকসাড়া রেলগেটের কাছে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী পৌঁছতে শুরু করেছে। বর্ষাকাল শেষ হওয়ার পর অক্টোবরের শুরু থেকে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ এগোলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যেই আন্ডারপাস সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর রেলের এই উদ্যোগে স্বাভাবিক ভাবেই স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের আশা, প্রকল্পের কাজ যেন কোনও কারণে দীর্ঘায়িত না হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আন্ডারপাস চালু করা হয়। কারণ শুধু যানজট কমানো নয়, এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এবং জরুরি পরিষেবার দ্রুত চলাচলের বিষয়টিও।

বাকসাড়া-বেতড় এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তাই প্রস্তাবিত আন্ডারপাস শুধু একটি নতুন যোগাযোগ পরিকাঠামো নয়, দীর্ঘদিনের এক সমস্যার সম্ভাব্য স্থায়ী সমাধান। রেলগেটের সামনে প্রতিদিনের অপেক্ষা, যানজট এবং জরুরি পরিষেবার গাড়ি আটকে পড়ার মতো পরিস্থিতি থেকে আগামী দিনে তাঁরা কতটা মুক্তি পান, তা নির্ভর করবে নির্মাণকাজের গতি এবং সময়মতো প্রকল্পটি শেষ হওয়ার উপর।

No Comments

    আরও পড়ুন

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved