Last updated: August 26th, 2026 at 05:38 pm

নিউজ ডেস্ক: উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রকৃতি যেন চরম তাণ্ডবরূপ ধারণ করেছে। লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ফলে উপচে পড়ছে উত্তর ভারতের একের পর এক প্রধান নদী। তার ওপর প্রতিবেশী দেশ নেপালের আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিকে চরম দুর্যোগের দিকে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে গঙ্গা ও যমুনায় জলস্তর বিপদসীমার বহুদূর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জলমগ্ন একাধিক জেলা, অন্যদিকে নেপালে কোশী নদীর ভয়াল তোড়ে লণ্ডভণ্ড সীমান্ত এলাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই প্রলয়ঙ্করি গ্রাসে উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় আচমকা আসা বানের তোড়ে অন্তত এক হাজার মানুষের ভেসে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা দু’দেশের সীমান্তজুড়েই চরম আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
উত্তরের সমতলজুড়ে এখন শুধুই জল আর হাহাকার। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ, মির্জাপুর, বান্দা, সোনভদ্র সহ একাধিক জেলায় নদীর জল জনবসতিতে হু-হু করে প্রবেশ করছে। গঙ্গা ও যমুনা— দুই প্রধান নদ-নদীই এখন উগ্র রূপ ধারণ করেছে। প্রয়াগরাজের নিচু এলাকাগুলো কার্যত জলের তলায় চলে গেছে; জল ঢুকেছে একাধিক আবাসন, থানা এবং সরকারি কার্যালয়ে। রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ১৩টি জেলার ১৭৩টিরও বেশি গ্রাম বন্যার জলে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। দুর্যোগ ও দেয়াল ধসের মতো দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ১৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে এনডিআরএফ (NDRF) এবং স্থানীয় প্রশাসন।
অন্যদিকে, বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে সীমান্ত পেরিয়ে হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশ নেপালে। সেখানে পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক ঢলের কারণে সৃষ্টি হওয়া বানে হু-হু করে জল বাড়ছে কোশী নদীতে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, নদী সংলগ্ন তল্লাটে জলের গতিবেগ এতটাই বেশি ছিল যে, নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিন্দুমাত্র সময় পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ এই জলচ্ছ্বাসের তোড়ে ভেসে গিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘরবাড়ি, সেতু, রাস্তাঘাট তো বটেই— আস্ত পাহাড়ি গ্রামগুলো কার্যত মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
হিমালয় থেকে নেমে আসা এই পর্বতপ্রমাণ জলরাশি কেবল নেপালকেই ধ্বংস করেনি, তার রেশ এসে পড়েছে ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলোতেও। কোশী নদীর উথালপাথাল তরঙ্গ ভারতের দিকে ধেয়ে আসার আশঙ্কায় চরম হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে বিহার ও সংলগ্ন সীমান্ত জেলাগুলোতে। নেপাল সরকারের তরফ থেকে উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীকে ময়দানে নামানো হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজে চরম ব্যাঘাত ঘটছে।
ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস এখনই স্বস্তি দিচ্ছে না; আগামী আরও কিছুদিন পাহাড়ি এলাকা এবং সমতলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা, যমুনা ও কোশীর এই ত্রিফলা তাণ্ডবে এক চরম অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুমিছিলের প্রহর গুনছে উত্তর ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী লাখ লাখ বিপন্ন মানুষ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments