Homeদক্ষিণ ২৪ পরগনাবারুইপুরবারুইপুরে বিজেপিকর্মী বাপি প্রামাণিক খুনে গ্রেপ্তার ৪, নিরপেক্ষতার স্বার্থে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় পরিবার

বারুইপুরে বিজেপিকর্মী বাপি প্রামাণিক খুনে গ্রেপ্তার ৪, নিরপেক্ষতার স্বার্থে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় পরিবার

নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে রাজনৈতিক কর্মী বাপি প্রামাণিক (৪৫) নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল বিতর্ক তৈরি
Screenshot 2026-08-26 143759

নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে রাজনৈতিক কর্মী বাপি প্রামাণিক (৪৫) নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই বারুইপুর থানার পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে রাজ্য পুলিশের এই চলতি তদন্তে একেবারেই আস্থা রাখতে পারছে না নিহতের পরিবার। তদন্তে ‘সেটিং’ বা প্রভাব খাটানোর মারাত্মক আশঙ্কা প্রকাশ করে মামলাটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর হাতে তুলে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার। একই সঙ্গে, ঘটনার এতদিন পরও দলীয় নেতৃত্ব পাশে না দাঁড়ানোয় জেলা ও রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে। বারুইপুর থানার অধীনস্থ হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ট্যাঙারবেড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়ির খুব কাছেই নৃশংসভাবে খুন হন ৪৫ বছর বয়সী বিজেপিকর্মী বাপি প্রামাণিক। পরিবারের তরফ থেকে দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা হলেন সুজন মণ্ডল, কৃষ্ণ মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া। মঙ্গলবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা থাকায় বাপির বাড়ির সামনে নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ধৃত সুজন মণ্ডল বারুইপুর পূর্ব ৫ নম্বর মণ্ডলের দলের প্রাক্তন সভাপতি এবং বর্তমানে বিজেপির নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য। যদিও বিজেপির জেলা নেতৃত্বের একাংশের দাবি, সুজনকে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অন্যদিকে বাকি তিন ধৃত ব্যক্তি এলাকায় তৃণমূল সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ধৃতদের মধ্যে এই রাজনৈতিক মেলবন্ধন ঘটনার পেছনে গভীর চক্রান্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে সুজনের স্ত্রী সুপর্ণার পাল্টা দাবি, “আমার স্বামীকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি এলাকায় নৈশপ্রহরী হিসেবে নিজের ডিউটিতে ব্যস্ত ছিলেন।”

পরিবারের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার রাতে স্থানীয় এক বিজেপিকর্মী বাদল মণ্ডল ফোন করে বাপিকে জানান যে তাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন। সেই ফোন পেয়েই তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বের হন বাপি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকালয় থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই বাদলকে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বারুইপুর থানার পুলিশ। বাপির মোবাইলের কল ডিটেইলস রেকর্ডের (CDR) সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো গভীর আর্থিক বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত বাপির দুই মেয়ে মন্দিরা সর্দার ও সোনালি প্রামাণিক। তাঁদের মারাত্মক অভিযোগ, “পুলিশ যেভাবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাতে মূল অপরাধীদের আড়াল করে জলঘোলা বা ‘সেটিং’ হয়ে যেতে পারে। আমরা প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, তাই অবিলম্বে এই মামলার দায়িত্ব সিবিআইকে দেওয়া হোক।”

পরিবারের আরও দাবি, একুশের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে এলাকা ছাড়া থাকা শাসকদলের দুই প্রভাবশালী নেতা সম্প্রতি পুনরায় ট্যাঙারবেড়িয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। বাপিকে এলাকা ছাড়তে বা সাহায্য করতে ১০ লক্ষ টাকার একটি টোপ বা প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাপি সেই টাকা নিতে পরিষ্কার অস্বীকার করেন। অভিযোগ, সেই টাকা না নেওয়ায় স্থানীয় সুজনের মাধ্যমে বিজেপির তিনজনের মধ্যে সেই অর্থ ভাগ বাঁটোয়ারা করার এক ছক কষা হয় এবং তার পরিণতিতেই পরিকল্পিতভাবে বাপিকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে খুন করা হয়েছে।

নিহত বাপির পরিবারের অভিযোগের তীর কেবল পুলিশের দিকেই নয়, নিজেদের রাজনৈতিক দলের দিকেও। মেয়েদের আক্ষেপ, “বিজেপির রাজনীতি করার কারণেই বাবাকে দীর্ঘ ১৮ বছর বাড়িছাড়া হয়ে থাকতে হয়েছিল। আজ সেই রাজনীতি করার জন্যই বাবার প্রাণ গেল। অথচ দুঃখের বিষয়, মৃত্যুর পর বিজেপির জেলা বা রাজ্য স্তরের কোনও প্রবীণ নেতা, বিধায়ক কিংবা সাংসদ এসে আমাদের পরিবারের একটু খোঁজটুকুও নেননি।” পরিবার চরম আর্থিক সঙ্কটে উল্লেখ করে তাঁরা দলীয় নেতৃত্বের কাছে ছোট ভাইয়ের একটি চাকরির আবেদন জানান।

পরিবারের এই সিবিআই তদন্তের দাবি এবং ক্ষোভ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম কর বলেন, “বাপি প্রামাণিক আমাদের দলের অত্যন্ত একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তৃণমূলের লোকেরাই চক্রান্ত করে তাঁকে খুন করেছে। আমাদের দলীয় নেতৃত্বের পূর্ণ ভরসা রয়েছে পুলিশ প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের ওপর। তবে নিহতের পরিবার সিবিআই তদন্ত চাইছে বা তাঁদের ক্ষোভ রয়েছে— এমন কোনো খবর আমাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছায়নি।”

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved