HomeদেশSIR-এ ৩১ লক্ষ নাম বাদ! সুপ্রিম কোর্টে উদ্বেগ

SIR-এ ৩১ লক্ষ নাম বাদ! সুপ্রিম কোর্টে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক : বাংলার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত SIR মামলায় আবেদনগুলির নিষ্পত্তির গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। চূড়ান্ত তালিকা
August 25, 2026 1022 AM (3)SIR-এ ৩১ লক্ষ নাম বাদ! সুপ্রিম কোর্টে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক : বাংলার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত SIR মামলায় আবেদনগুলির নিষ্পত্তির গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও বিপুল সংখ্যক আবেদনের অ্যাডজুডিকেশন বা বিচারাধীন আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শীর্ষ আদালতে। শুনানিতে একটি RTI রিপোর্ট তুলে ধরে জানানো হয়েছে, কমিশনের কাছে এখনও পর্যন্ত ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। তবে সেই আবেদনের ধরন নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।

আদালতে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ লক্ষের বেশি আবেদনের মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ আবেদন নাম সংযুক্ত করার দাবিতে করা হয়েছে। অর্থাৎ, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই বা বাদ পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের একাংশ নাম পুনরায় যুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। অন্য দিকে, প্রায় ৩১ লক্ষ আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে। এই বিপুল ব্যবধানই এ দিনের শুনানিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

৩৮ লক্ষের বেশি আবেদন, নজরে অ্যাডজুডিকেশন

বাংলার SIR প্রক্রিয়া ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও বিভিন্ন আবেদন এবং অভিযোগের নিষ্পত্তি কতটা দ্রুত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ দিনের শুনানিতে সেই বিষয়টিই সামনে আসে।

মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ একটি RTI রিপোর্ট আদালতের সামনে তুলে ধরেন। ওই রিপোর্টে কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনের সংখ্যা এবং ধরন উল্লেখ করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।

তথ্য অনুযায়ী, মোট আবেদনের একটি অংশ ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করার জন্য। কিন্তু তার তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক আবেদন করা হয়েছে নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে। প্রায় ৩১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসায় পুরো প্রক্রিয়ার অ্যাডজুডিকেশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

নাম বাদ দেওয়ার আবেদন নিয়েই বেশি প্রশ্ন

আবেদনের ধরন অনুযায়ী এত বড় পার্থক্য কেন তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রায় ৩১ লক্ষ আবেদন যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই আবেদনগুলির যাচাই কী ভাবে হচ্ছে এবং কতগুলি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে—সেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একই সঙ্গে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিটি আবেদন যথাযথ ভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বক্তব্য শোনার সুযোগ থাকছে কি না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না—এই বিষয়গুলিও SIR প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

আদালতে পেশ করা তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাডজুডিকেশনের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও বিপুল সংখ্যক আবেদন বিচারাধীন থাকলে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে।

৩১টি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে বড় দাবি

এ দিন শুনানিতে মামলাকারীদের তরফে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্যের ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা যে সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন, তার থেকেও বেশি সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে বলে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।

এই দাবি ঘিরে অবশ্য আদালতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তবে এটি মামলাকারীদের পক্ষের অভিযোগ—এটি আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

SIR নিয়ে চলা মামলায় এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটার তালিকা থেকে কোনও নাম বাদ পড়ার পিছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যথাযথ ভাবে জানানোর ব্যবস্থা হয়েছে কি না এবং আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না—প্রতিটি বিষয়ই আইনি পরীক্ষার আওতায় রয়েছে।

নতুন করে ভোট হলে কোন কেন্দ্রগুলিতে?

শুনানিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আসে। মামলাকারীদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নতুন করে ভোট করানোর নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, সেই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার আগে বিচারপতিরা জানতে চান, সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলির কতগুলিতে ইতিমধ্যে Election Petition বা নির্বাচনী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অর্থাৎ, ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ এবং সেই তালিকার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা—এই দুই বিষয়কে আদালত আলাদা করে দেখতে চাইছে। কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনের ফল নিয়ে ইতিমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, তা জানা গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার প্রভাব থাকতে পারে।

এই প্রশ্নের মাধ্যমে আদালত কার্যত জানতে চাইছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে নির্বাচনী ফলাফলকে সরাসরি যুক্ত করার মতো কোনও পৃথক আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কি না।

SIR মামলায় এখন নজর পরবর্তী শুনানিতে

বাংলার SIR প্রক্রিয়া নিয়ে মামলা ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যায়ে পৌঁছেছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও বিপুল সংখ্যক আবেদন এবং তার নিষ্পত্তির গতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

এক দিকে নাম যুক্ত করার জন্য কয়েক লক্ষ আবেদন, অন্য দিকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য কয়েক গুণ বেশি আবেদন—এই পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা এবং তার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এখন আদালতের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে প্রায় ৩১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার আবেদন কী ভাবে যাচাই করা হচ্ছে, কতগুলি আবেদন মঞ্জুর বা খারিজ হয়েছে এবং কতগুলি এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের বক্তব্য শোনার প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর ভাবে চলছে, সেটিও নজরে থাকবে।

এ দিনের শুনানিতে নতুন করে ভোটের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে Election Petition দায়ের হয়েছে কি না, সেই তথ্য জানতে চেয়েছে আদালত। ফলে পরবর্তী শুনানিতে এই সংক্রান্ত তথ্য এবং SIR আবেদনের অ্যাডজুডিকেশনের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, বাংলার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত SIR মামলায় এখন তিনটি বিষয় বিশেষ নজরে—বিপুল সংখ্যক আবেদনের নিষ্পত্তির গতি, প্রায় ৩১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে নির্বাচনী মামলা দায়েরের পরিস্থিতি। পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়গুলির উপরই আরও স্পষ্টতা আসতে পারে।


No Comments

তাজা খবর