Homeমালদাই-স্কুটারে ২৫ কিমির গেরো!

ই-স্কুটারে ২৫ কিমির গেরো!

resizeplus_ChatGPT Image Aug 24, 2026, 07_32_40 AM

নিউজ ডেস্ক: রাস্তায় ইলেকট্রিক স্কুটার চালান? তাহলে শুধু ব্যাটারি চার্জ থাকলেই হবে না, আপনার গাড়িটি কোন শ্রেণির মধ্যে পড়ছে, সেটাও জানা জরুরি। বিশেষ করে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলতে সক্ষম ইলেকট্রিক স্কুটারের ক্ষেত্রে পরিবহণ আইন ও রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এই বিষয়েই সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মালদহ শহরে বিশেষ অভিযান চালাল জেলা ট্র্যাফিক পুলিশ এবং আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর বা RTO।

মালদহ শহরের রথবাড়ি মোড়ে ইংরেজবাজার থানার আওতাধীন এলাকায় এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রাস্তায় চলাচলকারী একাধিক ইলেকট্রিক স্কুটার থামিয়ে সেগুলির সর্বোচ্চ গতিসীমা পরীক্ষা করেন আধিকারিকেরা। পাশাপাশি গাড়ির প্রয়োজনীয় নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল, কোন ধরনের ইলেকট্রিক যানবাহনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন এবং অন্যান্য মোটরযান সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর হচ্ছে, সে বিষয়ে চালকদের সচেতন করা।

২৫ কিলোমিটার গতির নিয়মটা আসলে কী?

ইলেকট্রিক স্কুটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হয় ২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার সীমা নিয়ে। Central Motor Vehicles Rules বা CMVR-এর Rule 2(u)-তে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের সংজ্ঞা এবং নির্দিষ্ট শর্তের কথা বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ এবং অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্রের যাচাইয়ের ভিত্তিতে দুই চাকার ব্যাটারি চালিত যানকে মোটরযান হিসেবে গণ্য না করার সুযোগ রয়েছে। সেই শর্তগুলির মধ্যে অন্যতম হল গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার কম হওয়া। পাশাপাশি মোটরের ৩০ মিনিটের পাওয়ার ০.২৫ কিলোওয়াটের কম হওয়া-সহ আরও কিছু শর্ত রয়েছে।

অর্থাৎ, শুধু গাড়ির গায়ে ‘ইলেকট্রিক’ লেখা থাকলেই সেটি রেজিস্ট্রেশন-মুক্ত হয়ে যায় না। গাড়িটির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং অনুমোদিত পরীক্ষার শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। যে ইলেকট্রিক স্কুটার এই ছাড়ের আওতায় পড়ে না, সেটিকে মোটরযান হিসেবে গণ্য করার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

এই কারণেই মালদহে রাস্তায় নেমে ই-স্কুটারগুলির গতি এবং কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।

মালদহে কী দেখল ট্র্যাফিক পুলিশ?

রথবাড়ি মোড়ে অভিযানের সময় একাধিক ইলেকট্রিক স্কুটার থামানো হয়। আধিকারিকেরা গাড়িগুলির সর্বোচ্চ গতিসীমা সম্পর্কে তথ্য যাচাই করেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে কি না, সেটিও দেখা হয়।

প্রশাসনের বক্তব্য, ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে নতুন ধরনের এই যানগুলির ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা নিয়ে অনেক চালকের মধ্যেই এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই। কেউ কেউ মনে করেন, যেহেতু গাড়িতে পেট্রল বা ডিজেল ব্যবহার হচ্ছে না, তাই মোটরযান আইনের নিয়মও প্রযোজ্য নয়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি গাড়িটির শ্রেণি এবং নির্ধারিত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে।

শুধু রেজিস্ট্রেশন নয়, আরও কী কী লাগতে পারে?

যে ইলেকট্রিক স্কুটার মোটরযান হিসেবে শ্রেণিভুক্ত, তার ক্ষেত্রে শুধু RTO রেজিস্ট্রেশন করালেই দায়িত্ব শেষ নয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোটরযান আইন অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাখতে হয়।

এই বিষয়গুলিই অভিযানের সময় চালকদের সামনে তুলে ধরেন ট্র্যাফিক পুলিশ এবং পরিবহণ দফতরের আধিকারিকেরা। একই সঙ্গে পথ নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতন করা হয় চালকদের।

বিশেষ করে হেলমেট ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রিক স্কুটারের গতি তুলনামূলক কম হলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি একেবারে থাকে না, এমনটা নয়। রাস্তায় অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষ, আচমকা ব্রেক করা কিংবা ভিজে রাস্তায় স্কিড করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হেলমেট ব্যবহারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্র্যাফিক আধিকারিকেরা।

২৫ কিমির সীমা নিয়ে বড় ভুল কোথায়?

অনেক সময় ২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার সীমাকে সাধারণভাবে ‘২৫ পর্যন্ত সব ই-স্কুটার রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চলবে’ বলে ধরে নেওয়া হয়। বিষয়টি এতটা সরল নয়। CMVR-এর Rule 2(u)-এর শর্ত অনুযায়ী, দুই চাকার ব্যাটারি চালিত যানকে মোটরযান হিসেবে গণ্য না করার জন্য একাধিক প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণ করতে হয় এবং নির্দিষ্ট পরীক্ষাকারী সংস্থার যাচাই ও অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে।

এই শর্তগুলির মধ্যে মোটরের ৩০ মিনিটের পাওয়ার ০.২৫ কিলোওয়াটের কম হওয়া, সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার কম হওয়া, উপযুক্ত ব্রেক ও রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ডিভাইস থাকা এবং নির্দিষ্ট ওজনসীমার মতো বিষয় রয়েছে। প্যাডেল-অ্যাসিস্টেড গাড়ির ক্ষেত্রেও আলাদা শর্ত রয়েছে।

তাই কোনও ই-স্কুটার রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন কি না, শুধু তার স্পিডোমিটারে কত কিলোমিটার গতি দেখাচ্ছে তা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট মডেলের অনুমোদন এবং গাড়িটির নির্ধারিত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যও দেখতে হবে।

নজরদারি আরও বাড়বে মালদহে

প্রশাসনের দাবি, নিয়ম না মেনে ইলেকট্রিক যানবাহন রাস্তায় চলাচল বন্ধ করতেই এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। মালদহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলির পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও আগামী দিনে নজরদারি বাড়ানো হতে পারে।

ই-স্কুটারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা এবং আইন মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে গাড়ি কেনার আগে তার সর্বোচ্চ গতি, মোটরের ক্ষমতা, অনুমোদন এবং রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন রয়েছে কি না—এসব তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে কোনও গাড়িকে ‘লো-স্পিড ইলেকট্রিক স্কুটার’ বলা হচ্ছে বলেই সেটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে সব ধরনের মোটরযান আইন থেকে মুক্ত—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করছে কি না এবং সেই ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।

মালদহের রথবাড়ি মোড়ের এই অভিযান তাই শুধুমাত্র নিয়ম ভাঙা ধরার অভিযান নয়, ইলেকট্রিক যান ব্যবহারকারীদের কাছে আইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পৌঁছে দেওয়ারও একটি উদ্যোগ। আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের নজরদারি আরও বাড়তে পারে বলেই প্রশাসনিক মহলে ইঙ্গিত।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved