Homeমালদাস্কুলে মহিলা শিক্ষাকর্মীকে হেনস্থার অভিযোগ, তোলপাড় মালদা

স্কুলে মহিলা শিক্ষাকর্মীকে হেনস্থার অভিযোগ, তোলপাড় মালদা

নিউজ ডেস্ক: স্কুলের স্টাফ রুমে ঢুকে এক মহিলা শিক্ষাকর্মীকে মারধর এবং শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে একদল পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র
পণের দাবিতে (5)

নিউজ ডেস্ক: স্কুলের স্টাফ রুমে ঢুকে এক মহিলা শিক্ষাকর্মীকে মারধর এবং শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে একদল পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে মালদহের বামনগোলা থানার জগদলা হাইস্কুলে। অভিযোগ, এক প্রাক্তন ছাত্রকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বচসা থেকেই পরিস্থিতি আচমকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর দ্বাদশ শ্রেণির কয়েক জন পড়ুয়া স্টাফ রুমে ঢুকে ওই মহিলা শিক্ষাকর্মীর উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।

ঘটনার জেরে স্কুল চত্বরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পড়ুয়াদের একাংশের সঙ্গে মহিলা শিক্ষাকর্মীর হাতাহাতির অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে আক্রান্ত শিক্ষাকর্মী এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে একেবারে ভিন্ন ছবি উঠে এসেছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে ইতিমধ্যেই বিষয়টি থানার দরজায় পৌঁছেছে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি প্রাক্তন ছাত্রের স্কুল ছাড়ার শংসাপত্র বা ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে। জানা গিয়েছে, ওই প্রাক্তন ছাত্র তাঁর বর্তমান সংশোধিত নাম অনুযায়ী সার্টিফিকেট চেয়েছিলেন। কিন্তু স্কুলের মহিলা শিক্ষাকর্মীর বক্তব্য ছিল, স্কুলের সরকারি নথিতে যে নাম রয়েছে, সেই নামের ভিত্তিতেই শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব। এই বিষয়টি নিয়েই প্রথমে বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর প্রাক্তন ছাত্রের হয়ে কয়েক জন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া সরব হন বলে অভিযোগ। এরপর তাঁরা স্টাফ রুমে ঢুকে ওই মহিলা শিক্ষাকর্মীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি এবং মারধর। ওই সময় তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন আক্রান্ত শিক্ষাকর্মী। তাঁর আরও দাবি, মারধরের সময় তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয়।

স্কুল চলাকালীন স্টাফ রুমে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় অন্যান্য পড়ুয়াদের মধ্যেও আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে স্কুলের ভিতরেই হাতাহাতি এবং চুলোচুলির মতো ঘটনা ঘটে। পরে আক্রান্ত মহিলা শিক্ষাকর্মীকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে বামনগোলার মুদিপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।

তবে ঘটনার পর আক্রান্ত শিক্ষাকর্মী গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক এবং কয়েক জন সহ-শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক অমিত হালদার এবং অন্য শিক্ষকদের উস্কানি ও প্ররোচনার কারণেই পড়ুয়ারা তাঁর উপর হামলা চালানোর সাহস পেয়েছেন। শুধু এ দিনের ঘটনা নয়, এর আগেও তাঁকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আক্রান্ত শিক্ষাকর্মীর দাবি, এর আগেও তাঁকে দিয়ে জোর করে অনৈতিক কাজ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর গায়ে হাত তোলা এবং পড়ুয়াদের ব্যবহার করে তাঁকে মারধর করানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। স্কুলে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একজন পড়ুয়া কী ভাবে স্টাফ রুমে ঢুকে শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীর গায়ে হাত তোলার সাহস পাচ্ছে, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এই ঘটনায় তিনি বামনগোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পড়ুয়া এবং অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, আক্রান্ত শিক্ষাকর্মীর সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন জগদলা হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক অমিত হালদার। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষাকর্মীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন এবং গত দু’বছর ধরে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই মহিলা শিক্ষাকর্মী প্রায় দেড় বছর আগে স্কুলে যোগ দিলেও কাজের দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই মতবিরোধ ছিল।

ট্রান্সফার সার্টিফিকেটকে কেন্দ্র করে বিবাদের প্রসঙ্গে প্রধানশিক্ষকের দাবি, স্কুলের নথিতে যে তথ্য রয়েছে, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি তৈরি করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিক্ষাকর্মী তা করতে রাজি হননি বলে তাঁর অভিযোগ। এরপর তাঁকে নিয়ে বচসা শুরু হয়। প্রধানশিক্ষকের পাল্টা দাবি, ওই মহিলা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাঁর গায়ে হাত তোলেন। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি নিজের চেয়ারে বসে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন অমিত হালদার।

স্কুলের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই বিষয়ে প্রধানশিক্ষক বলেছেন, তাঁর সামনে যা ঘটেছে এবং স্কুলের অন্য অংশে যা হয়েছে—দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। বাইরে ঠিক কী হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ ভাবে অবগত নন বলেও দাবি করেছেন।

ফলে একই ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। এক দিকে মহিলা শিক্ষাকর্মীর অভিযোগ, পড়ুয়ারা তাঁকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেছেন এবং এর পিছনে স্কুলের কয়েক জন শিক্ষকের ইন্ধন ছিল। অন্য দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধেই দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।

ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও চর্চায় এসেছে। তবে ভিডিয়োটির সত্যতা এবং সেটি ঠিক কোন সময় ও পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল, তা স্বাধীন ভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

একটি স্কুলে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পড়ুয়াদের মধ্যে এমন সংঘাত ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিয়ে। বিশেষ করে স্টাফ রুমের মতো জায়গায় পড়ুয়াদের প্রবেশ এবং সেখানে মারধরের অভিযোগ যথেষ্ট গুরুতর। অভিযোগগুলি সত্য হলে তার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আবার পাল্টা অভিযোগগুলিও তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন।

এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হতে পারে, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে তৈরি হওয়া বিবাদ কী ভাবে এত বড় আকার নিল, কারা স্টাফ রুমে ঢুকেছিল এবং মারধর বা শ্লীলতাহানির অভিযোগের সত্যতা কতটা। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা ইন্ধনের অভিযোগেরও প্রমাণ খতিয়ে দেখা হবে। মালদহের জগদলা হাইস্কুলের এই ঘটনা নিয়ে আপাতত তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন