
নিউজ ডেস্ক: ডেঙ্গুর মরশুমে শহরে মশার বংশবিস্তার রুখতে জমা জল এবং আবর্জনা পরিষ্কারের উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই কলকাতা পুলিশের আওতায় থাকা বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা ৫৭১টি বেওয়ারিশ গাড়ি নিয়ে সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ৫৭১টি বিভিন্ন ধরনের অদাবিকৃত গাড়ি বিক্রির জন্য ই-অকশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে এবং নিলামের শেষ তারিখ ১২ অক্টোবর।
কলকাতা পুলিশের নথিতে এই গাড়িগুলিকে ‘unclaimed vehicles’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বিভিন্ন এলাকার আওতায় পড়ে থাকা এবং মালিকানা নিয়ে দাবি না থাকা গাড়িগুলিকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নোটিস অনুযায়ী, মোট ৫৭১টি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি এই ই-অকশনের আওতায় রয়েছে।
বর্ষার সময়ে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা গাড়ি, টায়ার কিংবা বিভিন্ন ফাঁকা অংশে জল জমে থাকার সম্ভাবনা থাকে। জমে থাকা জল মশার বংশবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ফলে শহরের বিভিন্ন থানা চত্বর, ডাম্পিং এলাকা কিংবা পরিত্যক্ত যানবাহন রাখা জায়গাগুলিতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জমা জল অপসারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কলকাতা পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে বারবার জমা জল পরিষ্কার রাখার উপর জোর দেওয়া হয়। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি জায়গাতেও জমা জলের উৎস চিহ্নিত করে তা সরানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তবে কলকাতা পুলিশের ৫৭১টি বেওয়ারিশ গাড়ির ই-অকশন সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘ডেঙ্গু দমন অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গাড়িগুলি শুধুমাত্র ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য সরানো হচ্ছে—এমন দাবি করার আগে আরও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক তথ্য প্রয়োজন।
এদিকে, শহরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সচেতনতার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোথাও যাতে দীর্ঘদিন জল জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে বর্ষার পরে জমে থাকা জল দ্রুত পরিষ্কার করা এবং মশার লার্ভা জন্মানোর সম্ভাব্য জায়গাগুলি চিহ্নিত করা জরুরি।
কলকাতা পুলিশের ৫৭১টি অদাবিকৃত গাড়িকে ই-অকশনের আওতায় আনার পদক্ষেপ তাই প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা যানবাহনগুলির নিষ্পত্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলিও ভবিষ্যতে আরও পরিষ্কার ও ব্যবস্থাপনাযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই পদক্ষেপের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমা জল, আবর্জনা এবং মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর কলকাতাবাসীর।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments