
নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে প্রায় ৩০০টি বেসরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন একটি দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
দাবি করা হচ্ছে, শিক্ষা সংক্রান্ত স্বীকৃতি এবং অগ্নি-নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না করার অভিযোগে ২৯৭টি বেসরকারি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনও দাবি করা হচ্ছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই নির্দিষ্ট ২৯৭টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা, ৩১ ডিসেম্বরের সময়সীমা এবং প্রায় ১৮ হাজার পড়ুয়ার স্থানান্তর সংক্রান্ত কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে দাবিগুলি সরকারি নথি দিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি।
পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সরকারি ওয়েবসাইটে রাজ্যের স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলির তালিকা প্রকাশিত রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জেলার স্বীকৃত হাই মাদ্রাসা, উচ্চমাধ্যমিক এবং সিনিয়র মাদ্রাসার তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো ও অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিল্ডিং বিধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিরাপদ বহির্গমন ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলির উল্লেখ রয়েছে।
ফলে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি বা নিরাপত্তার নিয়ম না মানলে প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা ঠিক ২৯৭টি বেসরকারি মাদ্রাসার ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটাই এখন যাচাইয়ের বিষয়।
এই দাবি সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কোনও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে সেখানে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীদের বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এখন নজর থাকবে রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে। সরকারি নথি প্রকাশ্যে এলে কতগুলি প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছে এবং পড়ুয়াদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments