Last updated: September 17th, 2026 at 06:27 pm

নিউজ ডেস্ক; বাঘ, হাতি কিংবা বাইসনের হামলায় মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের কাউকে চাকরি দেওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু শিয়ালের হামলায় মৃত্যু হলে এত দিন সেই তালিকায় ছিল না। এবার সেই ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য বন দফতর। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার শিয়ালের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি চাকরি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বন দফতর সূত্রে খবর। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ায়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। পুরুলিয়ার ঝালদা বনাঞ্চলের ইচাগ গ্রামের বাসিন্দা প্রমীলা রজক শিয়ালের কামড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার নিহতের পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি প্রমীলার ছেলে জিতেন্দর রজককে ঝালদা বনাঞ্চলেই ফরেস্ট ভলান্টিয়ার পদে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাসিক বেতন হবে ১২ হাজার টাকা। বন দফতরের তরফে এই নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা।
বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পুরুলিয়ার বিভিন্ন বনাঞ্চলে শিয়ালের আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। ঝালদা, কোটশিলা, বাঘমুণ্ডি এবং কংসাবতী উত্তর বন বিভাগের রঘুনাথপুর ও কাশীপুর এলাকায় শিয়ালের আঁচড় ও কামড়ে একশোরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একই সময়ে শিয়ালের হামলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
পুরুলিয়ার জঙ্গলঘেঁষা এলাকাগুলিতে সন্ধ্যার পর শিয়ালের আনাগোনা নতুন নয়। ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে গত এক বছর ধরে বেঙ্গল ফক্সের উপস্থিতি এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিনের আলো কমে এলেই অনেক রাস্তা দিয়ে যাতায়াত নিয়েও আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এত দিন পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর হামলায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে মূলত হাতি, বাঘ বা বাইসনের মতো প্রাণীর হামলাকে ক্ষতিপূরণ ও চাকরির আওতায় ধরা হত। শিয়ালের হামলার ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা ছিল না। ফলে পুরুলিয়ার এই সিদ্ধান্তকে বন দফতরের ক্ষেত্রে একটি নতুন নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে শিয়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি শুধুমাত্র মানুষের জন্য বিপদের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জঙ্গলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্যও। ফলে একদিকে যেমন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, অন্যদিকে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সেই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রেখে পরিস্থিতি সামলানোই এখন বন দফতরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
পুরুলিয়ার জঙ্গলঘেঁষা এলাকায় শিয়ালের হামলা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই মৃতের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের এক সদস্যকে বন দফতরের কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে। রাজ্য বন দফতরের ইতিহাসে শিয়ালের হামলার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ প্রথমবার বলেই জানানো হয়েছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments