Last updated: October 12th, 2026 at 06:35 pm

নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই দুই ইস্যুতে আন্দোলনকে আরও বড় আকার দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্য দিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরও একই বিষয়গুলিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালাচ্ছে। কিন্তু সিজেপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে হাত মেলানো হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধী জোটের অন্দরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
ভোটার তালিকা সংশোধন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে বিরোধী দলগুলির একাংশের আন্দোলন ইতিমধ্যেই দিল্লির রাজনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী শিবিরের বিক্ষোভও হয়েছে। তবে একই দাবিতে আন্দোলন করলেও সিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি করার প্রশ্নে সব দলের অবস্থান এক নয়।
জোট সূত্রের দাবি, তৃণমূলের কালীঘাট শিবির, সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং বাম দলগুলির একাংশ সিজেপিকে পাশে রাখার বিষয়ে আগ্রহী। অন্য দিকে, কংগ্রেসের তরফে এই উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে আন্দোলনের অভিন্ন লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্রের আরও দাবি, প্রায় দু’সপ্তাহ আগে দিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক তথা ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, কংগ্রেসের উত্থাপিত রাজনৈতিক ইস্যুগুলি যাতে অন্য কোনও সংগঠন নিজেদের আন্দোলনের স্বার্থে নিজেদের দিকে টেনে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন। যদিও এই বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি।
এই মতবিরোধের প্রভাব পড়েছে সোমবারের প্রস্তাবিত সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখী মিছিল নিয়েও। জোট সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের আপত্তির কারণে সিজেপি নেতৃত্বকে ওই কর্মসূচিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে সিজেপির প্রতিনিধিরা যদি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে মিছিলে যোগ দেন, তা হলে ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের কয়েকটি শরিক দল তাঁদের স্বাগত জানাতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
বিরোধী শিবিরের এই দ্বিধা ডেরেক ও’ব্রায়েনের মন্তব্যেও কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা বলেন, দিল্লির রাস্তায় যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জন্য অশুভ সঙ্কেত। প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার বাইরে থেকে পুলিশ সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা বর্তমান সরকারের জন্য বিপজ্জনক ইঙ্গিত বহন করে।
একই সঙ্গে আন্দোলনের সূচনায় তরুণ সমাজ এবং সিজেপির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ডেরেক। তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ। তাঁর এই মন্তব্যকে সিজেপির প্রতি তৃণমূলের তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তা থেকে গোটা ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ চললেও আন্দোলনের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৃতিত্বের প্রশ্নে মতভেদ সামনে এসেছে। সিজেপিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাশে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেই। আগামী দিনে বিরোধী দলগুলি সমন্বিত কর্মসূচিতে এগোতে পারে, নাকি পৃথক অবস্থান বজায় রাখবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments