Homeহুগলিব্যাগ বদল হতেই কাণ্ড! অন্যের পিস্তল-গুলি নিয়ে থানায় যাত্রী

ব্যাগ বদল হতেই কাণ্ড! অন্যের পিস্তল-গুলি নিয়ে থানায় যাত্রী

নিউজ ডেস্ক; বর্ধমান-হাওড়া লোকাল ট্রেনে আচমকাই বদলে গেল দু’টি একই রঙের ব্যাগ। আর সেই ভুলেই এক যাত্রীর হাতে চলে এল প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল ও তাজা কার্তুজ! ব্যাগ খুলে
resizeplus_Screenshot 2026-09-10 175120_edited

নিউজ ডেস্ক; বর্ধমান-হাওড়া লোকাল ট্রেনে আচমকাই বদলে গেল দু’টি একই রঙের ব্যাগ। আর সেই ভুলেই এক যাত্রীর হাতে চলে এল প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল ও তাজা কার্তুজ! ব্যাগ খুলে ভিতরের সামগ্রী দেখে কার্যত হতভম্ব হয়ে যান বৈঁচীর বাসিন্দা শেখ রাজু। কী করবেন বুঝতে না পেরে কিছুক্ষণ স্টেশনেই বসে থাকেন তিনি। পরে বাড়ি ফিরে মাকে গোটা ঘটনা জানান এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাগটি নিয়ে বৈঁচী ফাঁড়িতে হাজির হন। অন্য দিকে, নিজের ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কারণে বিষয়টি বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি শেওড়াফুলি জিআরপি-র দ্বারস্থ হন প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ান কমল ঘোষ।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। চন্দননগর থেকে শ্রীরামপুর যাওয়ার জন্য বর্ধমান-হাওড়া লোকালে উঠেছিলেন ৪৫ বছর বয়সি কমল। তাঁর সঙ্গে ছিল নীল রঙের একটি ব্যাগ। ট্রেনের কামরায় বাঙ্কের উপর সেই ব্যাগটি রেখে যাত্রা করছিলেন তিনি। একই কামরায় ছিলেন বৈঁচীর বাসিন্দা শেখ রাজুও। তাঁর কাছেও ছিল প্রায় একই রকম দেখতে নীল রঙের একটি ব্যাগ। দু’জনেই নিজেদের ব্যাগ বাঙ্কে রেখে দিয়েছিলেন।

শেওড়াফুলি স্টেশনে নামার সময় ঘটে যায় বিপত্তি। নিজের ব্যাগ ভেবে নীল রঙের একটি ব্যাগ নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন রাজু। স্টেশন থেকে কিছুটা এগোনোর পরই তাঁর সন্দেহ হয়—ব্যাগটি যেন তাঁর নয়! একই রকম দেখতে হওয়ায় ভুল করে অন্যের ব্যাগই তিনি নিয়ে নেমেছেন বুঝতে পারেন রাজু।

কী করবেন, তা নিয়ে কিছুক্ষণ দ্বিধায় পড়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ব্যাগটি খুলে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। আর ব্যাগের ভিতরের জিনিস দেখেই কার্যত তাঁর চোখ কপালে ওঠে। ভিতরে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ। আচমকা এমন জিনিস হাতে চলে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রাজু। তাঁর কাছে তখন অন্যের একটি ব্যাগ, আর সেই ব্যাগের ভিতরে অস্ত্র ও গুলি। বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা বুঝতে পারছিলেন না তিনি।

কিছুক্ষণ শেওড়াফুলি স্টেশনেই বসে পরিস্থিতি নিয়ে ভাবেন রাজু। এরপর ব্যাগটি সঙ্গে নিয়ে ফিরে যান বৈঁচীর দিকে। বাড়িতে গিয়ে নিজের মাকেও গোটা বিষয়টি জানান। শেষ পর্যন্ত কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ব্যাগটি নিয়ে বৈঁচী ফাঁড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এ দিকে, একই সময়ে নিজের ব্যাগ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কমলও। কিছুক্ষণ পর তিনিও বুঝতে পারেন যে তাঁর ব্যাগটি তাঁর কাছে নেই। ব্যাগ বদলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে দেরি না করে শেওড়াফুলি জিআরপি-তে যোগাযোগ করেন তিনি।

জিআরপি-তে গিয়ে কমল জানান, ওই ব্যাগে ছিল তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল। শুধু পিস্তলই নয়, ছিল দু’টি ম্যাগাজিন, ১৪ রাউন্ড তাজা গুলি এবং আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স সংক্রান্ত নথি। ফলে বিষয়টি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর, তা বুঝতে দেরি হয়নি রেল পুলিশের।

এর পরেই ব্যাগটির সন্ধানে তৎপর হয়ে ওঠে শেওড়াফুলি জিআরপি। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়। ফুটেজ দেখে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে বুঝতে পারে, শেওড়াফুলি স্টেশনেই কোনও ভাবে দু’টি একই রঙের ব্যাগের মধ্যে অদলবদল হয়েছিল। এরপর রেল পুলিশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। লক্ষ্য ছিল দ্রুত ওই ব্যাগটির সন্ধান করা এবং ভিতরে থাকা অস্ত্র ও গুলি নিরাপদে উদ্ধার করা।

এর মধ্যেই পুলিশের কাছে স্বস্তির খবর আসে। নীল ব্যাগটি নিয়ে বৈঁচী ফাঁড়িতে পৌঁছে যান রাজু। তিনি পুলিশকে গোটা ঘটনার কথা জানান এবং ব্যাগটি তাঁদের হাতে তুলে দেন। পরে ব্যাগের ভিতরে থাকা সমস্ত সামগ্রী পরীক্ষা করে দেখা হয়। কমলের দাবি অনুযায়ী পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন, ১৪ রাউন্ড তাজা গুলি এবং প্রয়োজনীয় নথি অক্ষত অবস্থাতেই উদ্ধার হয়।

পুলিশের তরফে প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্রও যাচাই করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রটির লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি কমলের বৈধ অস্ত্র। এরপর উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী-সহ ব্যাগটি প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ানের হাতে তুলে দেয় শেওড়াফুলি জিআরপি।

একই রকম দেখতে দু’টি ব্যাগের কারণে সামান্য অসাবধানতা কী ভাবে বড়সড় সমস্যার কারণ হতে পারে, এই ঘটনাটি তারই নজির। বিশেষ করে ট্রেনে যাত্রার সময় বাঙ্ক বা লাগেজ রাখার জায়গায় একই ধরনের একাধিক ব্যাগ থাকলে নিজের ব্যাগটি শনাক্ত করে নেওয়া কতটা জরুরি, তা এই ঘটনা ফের সামনে এনে দিল।

তবে এই ঘটনার আর একটি দিকও নজর কেড়েছে। ভুল করে অন্যের ব্যাগ হাতে চলে আসার পর সেটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বদলে রাজু শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে ব্যাগটি জমা দেন। তাঁর সতর্কতায় প্রাক্তন জওয়ানের অস্ত্র ও গুলি নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত জিআরপি-তে যোগাযোগ করায় কমলের ব্যাগ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হয়।

ঘটনায় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই অস্ত্র, গুলি এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হওয়ায় আপাতত স্বস্তি রেল পুলিশের। তবে একই ধরনের ব্যাগ নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved