Homeরাজ্যতোলাবাজি রুখতে নতুন আইনের পথে রাজ্য, স্বস্তির আশায় প্রোমোটার থেকে অটোচালক

তোলাবাজি রুখতে নতুন আইনের পথে রাজ্য, স্বস্তির আশায় প্রোমোটার থেকে অটোচালক

নিউজ ডেস্ক : তোলাবাজি, জোর করে টাকা আদায় কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যে ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আলোচনায়। | কলকাতার এই পরিস্থিতিতে সংগঠিত অপরাধ এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে
SuvenduPhto

নিউজ ডেস্ক : তোলাবাজি, জোর করে টাকা আদায় কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যে ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আলোচনায়। | কলকাতার এই পরিস্থিতিতে সংগঠিত অপরাধ এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে আরও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় ‘West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026’ পাশ হয়েছে। ওই আইনে তোলাবাজি, জমি দখল, সংগঠিত অপরাধ-সহ একাধিক সমাজবিরোধী কার্যকলাপকে আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

নতুন আইনি কাঠামো ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে ছোট ব্যবসায়ী, নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষ, প্রোমোটার, পরিবহণকর্মী এবং স্থানীয় স্তরে কাজ করা সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ, অভিযোগ উঠলে তোলাবাজির প্রভাব শুধু ব্যবসার খরচ বাড়ায় না, অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করে।

প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের বক্তব্য, নির্মাণকাজ শুরু থেকে শ্রমিক নিয়োগ—বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের অভিযোগ তাঁদের কাছে নতুন নয়। ফলে তোলাবাজি এবং ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা হলে ব্যবসার পরিবেশ আরও স্বাভাবিক হতে পারে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

একই ছবি পরিবহণ ক্ষেত্রেও। অটোচালক থেকে ছোট গাড়ির চালক—স্থানীয় রাস্তায় কাজ করা কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, নানা সময়ে বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। নতুন আইন বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর তাঁদের।

প্রস্তাবিত আইনে ‘অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি’-র আওতায় তোলাবাজি, জমি দখল, ভয় দেখানো, সংগঠিত অপরাধ এবং বৈধ ব্যবসা বা পেশায় বাধা দেওয়ার মতো বিষয় রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও পুলিশকে আটক, বহিষ্কার এবং তল্লাশি-জব্দের মতো ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

তবে আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও রয়েছে। বিরোধীদের একাংশ এর বিস্তৃত ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—আইন কাগজে কতটা কঠোর, তার চেয়ে বাস্তবে তোলাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ কতটা দ্রুত এবং নিরপেক্ষ হয়। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে সেই বাস্তব প্রয়োগের দিকেই নজর সাধারণ মানুষের।

No Comments