Last updated: September 24th, 2026 at 01:57 pm

নিউজ ডেস্ক; ব্যাঙ্কের নাম, কর্মীর পরিচয়, স্ট্যাম্প—সবই ছিল নথিতে। তাই সন্দেহের কোনও কারণ দেখেননি গ্রাহকেরা। সঞ্চয়ের টাকা নিরাপদে রাখার আশায় বেসরকারি ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক দিন পর নথি যাচাই করতে ব্যাঙ্কে গিয়ে কার্যত মাথায় হাত পড়ে যায়। রেকর্ডে নেই সেই ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা! হুগলির ব্যান্ডেলে এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের এক কর্মী, নিখিল গুপ্তা। গ্রাহকদের অভিযোগ, তাঁর মাধ্যমেই তাঁরা ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন। টাকা জমা দেওয়ার পর ব্যাঙ্কের প্যাডে তৈরি সার্টিফিকেট ও রসিদও তাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছিল। সেই নথিতে ব্যাঙ্কের নাম, কর্মীর এমপ্লয়ি কোড এবং স্ট্যাম্প ছিল বলেও দাবি গ্রাহকদের।
কিন্তু সম্প্রতি কয়েক জন গ্রাহকের সন্দেহ তৈরি হয়। তাঁরা নিজেদের এফডি সংক্রান্ত নথি নিয়ে ব্যান্ডেল শাখায় গিয়ে যাচাই করেন। সেখানেই নাকি জানা যায়, সংশ্লিষ্ট এফডির নামে ব্যাঙ্কের রেকর্ডে কোনও টাকা জমা পড়েনি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়।
এক গ্রাহকের দাবি, তিনি প্রায় সাড়ে ২৫ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন। তাঁর কাছেও সংশ্লিষ্ট কর্মীর দেওয়া স্ট্যাম্প-সহ সার্টিফিকেট ছিল। ব্যাঙ্কে গিয়ে নথি যাচাই করার পরই তিনি জানতে পারেন, ওই এফডির কোনও টাকা ব্যাঙ্কের হিসাবে নেই।
আর এক গ্রাহকের দাবি, তাঁর প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর একাধিক গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামনে আসেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তিকে দেখে নয়, বরং ব্যাঙ্কের নাম এবং প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা রেখেই তাঁরা সঞ্চয়ের টাকা জমা করেছিলেন। এখন সেই টাকা কী ভাবে ফেরত পাওয়া যাবে, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় তাঁরা।
ঘটনার পর মঙ্গলবার ব্যান্ডেল মোড়ের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সামনে কয়েক জন গ্রাহক জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। গ্রাহকদের তরফে প্রথমে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ওই ব্যাঙ্ককর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে ম্যানেজারের তরফে জানানো হয়েছে।
তবে ঠিক কত জন গ্রাহকের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেই সম্পূর্ণ অঙ্ক এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পাশাপাশি জাল নথি কী ভাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং টাকা কোন পথে সরানো হয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—বছরের পর বছর সঞ্চয় করা গ্রাহকদের টাকা শেষ পর্যন্ত ফেরত মিলবে কি না।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments