Homeঅন্যান্যঅসুর এখানে বাঙালি! কুমোরটুলির পুরনো কারিগরি ছোঁয়ায় শোলার দুর্গা, বাংলার শিল্পের পাড়ি বিদেশেও

অসুর এখানে বাঙালি! কুমোরটুলির পুরনো কারিগরি ছোঁয়ায় শোলার দুর্গা, বাংলার শিল্পের পাড়ি বিদেশেও

resizeplus_images (26)

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: মাটি নয়, শোলা। চেনা দুর্গাপ্রতিমার বদলে শোলার সূক্ষ্ম কারুকাজে ফুটে উঠছে দেবীর রূপ। আর সেই প্রতিমার অন্যতম বৈশিষ্ট্য—মহিষাসুরের মুখেও বাঙালিয়ানার ছাপ। দুর্গাপুজোর মরসুমে উত্তর কলকাতার কুমোরটুলির শিল্পপাড়ায় এমনই এক বিশেষ ধারার প্রতিমা নজর কাড়ছে।

কুমোরটুলি শুধু প্রতিমা তৈরির জায়গা নয়, কয়েক শতকের শিল্প-ঐতিহ্য বহন করে চলা বাংলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে প্রতিমার গড়ন, রং, চালচিত্র এবং অলঙ্করণে নানা পরিবর্তন এলেও মৃৎশিল্পীদের হাতের ঐতিহ্য এখনও বহমান।

শোলার কাজের নিজস্ব একটা নান্দনিকতা রয়েছে। হালকা এই উপকরণ দিয়ে দেবীর মুকুট, অলঙ্কার, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে প্রতিমার বিভিন্ন অংশে তৈরি করা যায় অত্যন্ত সূক্ষ্ম নকশা। দক্ষ কারিগরের হাতে সেই শোলা হয়ে ওঠে শিল্পের উপকরণ।

এই ধরনের প্রতিমায় বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠছে অসুরের অবয়বও। প্রচলিত পৌরাণিক রূপের পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব কল্পনা ও স্থানীয় সংস্কৃতির ছাপ মিশে কখনও কখনও অসুরের মুখাবয়বেও ফুটে ওঠে বাঙালিয়ানার বৈশিষ্ট্য। ফলে প্রতিমাটি শুধু ধর্মীয় ভাবনার প্রকাশ নয়, হয়ে ওঠে বাংলার লোকশিল্প ও কারিগরি ঐতিহ্যেরও পরিচায়ক।

কুমোরটুলির প্রতিমার চাহিদা অবশ্য কলকাতা বা বাংলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতি বছর এখানকার তৈরি প্রতিমা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশের পুজোতেও পৌঁছে যায়। প্রবাসী বাঙালিদের দুর্গোৎসবে কুমোরটুলির প্রতিমা এখন পরিচিত দৃশ্য।

ফলে পুজোর কয়েকদিনের উৎসবের বাইরেও কুমোরটুলির প্রতিটি প্রতিমার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিল্পীর দীর্ঘ পরিশ্রম, বংশপরম্পরায় চলে আসা দক্ষতা এবং বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়। মাটির প্রতিমা হোক কিংবা শোলার সূক্ষ্ম কারুকাজ—কুমোরটুলির শিল্প এখনও বাংলার দুর্গাপুজোর অন্যতম বড় পরিচয়।

আর সেই শিল্প যখন কলকাতার গলি পেরিয়ে দেশের অন্য প্রান্ত কিংবা বিদেশের মাটিতে পৌঁছে যায়, তখন পুজোর সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে বাংলার কারিগরির গল্পও।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved