
নিউজ ডেস্ক: দলে তোলাবাজি ও দাদাগিরির অভিযোগ নিয়ে এবার সরব হলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তৃণমূলের শাসনের অবসানের পরেও যদি কেউ তোলাবাজি চালিয়ে যান, তা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এমনকী, এই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যদিও কারও নাম করে অভিযোগ করেননি শান্তনু। তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরে বনগাঁর বিজেপির অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সোমবার দুপুরে বনগাঁ পুরসভায় যান শান্তনু ঠাকুর। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ওই বৈঠকে পুরসভার বিভিন্ন দাবি ও স্থানীয় সমস্যার বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই তোলাবাজি এবং পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের ভয় দেখানোর অভিযোগ নিয়ে সরব হন সাংসদ।শান্তনুর বক্তব্য, কেউ যদি ভয় দেখিয়ে বা ধমক দিয়ে এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তা বরদাস্ত করা হবে না। চেয়ারম্যানকে যারা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দেন তিনি। শান্তনু বলেন, “আমি বনগাঁয় আর একটা ‘ডাকু’ তৈরি হতে দেব না।”
বনগাঁয় তোলাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে শান্তনু বলেন, তৃণমূলের শাসন শেষ হওয়ার পরেও কেউ যদি একই ধরনের কাজ চালিয়ে যান, তা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। তাঁর কথায়, “বনগাঁয় তোলাবাজি, লুটতরাজ আমি বন্ধ করবই। তোলাবাজি নিয়ে কোনও অভিযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যাব।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি, তবু তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য কারা, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সামনে না আসা পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা যায় না।
বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া বর্তমানে রাজ্যের খাদ্য ও সমবায় দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন। শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতবিরোধের কথা স্থানীয় মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। মতুয়া সমাজের মধ্যে প্রভাব এবং বনগাঁর দলীয় সংগঠনে কর্তৃত্ব নিয়ে তাঁদের মধ্যে টানাপড়েন রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
কয়েক দিন আগেও একটি অনুষ্ঠানে নাম না করে খাদ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেছিলেন শান্তনু। তাঁর বক্তব্য ছিল, শুধু সংবর্ধনা নিলে হবে না, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হবে। সোমবার তোলাবাজি নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পরেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, এই বক্তব্যের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের যোগ থাকতে পারে। তবে শান্তনু নিজে খাদ্যমন্ত্রী বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ করেননি।
কয়েক মাস আগে বনগাঁর বিচুলিহাটা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির জেরে একটি শৌচাগার ভেঙে দেয় পুরসভা বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেই ঘটনার পর পুরসভার চেয়ারম্যানকে খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু বিজেপি কর্মীর ধমকের মুখে পড়তে হয়েছিল। সোমবারের বক্তব্যে চেয়ারম্যানকে ভয় দেখানোর প্রসঙ্গ তুলে শান্তনু সেই বিতর্ককে ফের সামনে আনেন।
তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য জানা জরুরি। শান্তনুর হুঁশিয়ারির পর বনগাঁয় তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে প্রশাসন বা দলীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments