Last updated: October 12th, 2026 at 06:39 pm

নিউজ ডেস্ক: ঔপনিবেশিক আমলের দীর্ঘ ঐতিহ্য কি এ বার নতুন প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রবেশ করতে চলেছে? ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকাকে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সংযুক্তিকরণের বিষয়টি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদনই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এই উদ্যোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে চান নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ২০১৯ সালে অর্জুন সিং ব্যারাকপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সবুজ সঙ্কেত দিলে রাজ্য সরকার সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ করতে পারে।
দেশের ৬২টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের মধ্যে ব্যারাকপুর অন্যতম প্রাচীন। ব্রিটিশ শাসনকালে গড়ে ওঠা এই এলাকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখনও মূলত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের পরিচালনা, অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বোর্ডের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকেন পদাধিকারবলে একজন ব্রিগেডিয়ার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। শেষ বার ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাচন হয়েছিল ২০১৫ সালে। ২০২০ সালে নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে নতুন নির্বাচিত বোর্ড গঠনের বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনে জনপ্রতিনিধিত্বের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, আয়ের শংসাপত্র কিংবা স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্রের মতো প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতেও তাঁদের এক দফতর থেকে অন্য দফতরে ঘুরতে হচ্ছে। এর জেরে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি মহকুমাশাসকের উপস্থিতিতে আয়োজিত সরকারি ‘সেবা সেতু’ শিবিরেও এই সমস্যাগুলি সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত শংসাপত্র এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পরিষেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট এলাকা উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হলে নাগরিক পরিষেবা প্রদানের কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। পুরসভার মাধ্যমে বিভিন্ন পরিষেবা আরও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন জমি, প্রশাসনিক দায়িত্ব, সম্পত্তি এবং অর্থ বরাদ্দের মতো একাধিক বিষয় এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এখন প্রশ্ন, দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট কি শেষ পর্যন্ত পুরসভার সঙ্গে যুক্ত হবে? নাকি বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোই বহাল থাকবে? কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত এবং রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপরেই নির্ভর করছে এলাকার ভবিষ্যৎ। আপাতত স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রশাসনিক পরিবর্তন হলে দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খুলবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments