Homeখেলাচোখে জল, স্মৃতিতে মায়ের লড়াই, এশিয়াডে কবাডিতে সোনা জিতে আবেগঘন পিঙ্কি রায়

চোখে জল, স্মৃতিতে মায়ের লড়াই, এশিয়াডে কবাডিতে সোনা জিতে আবেগঘন পিঙ্কি রায়

resizeplus_eisamay_2026-10-06_wgsiez5w_Pinki-Roy


নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের মঞ্চে দেশের হয়ে সোনা জয়ের স্বপ্ন বহু বছর ধরে বুকে লালন করেছিলেন রানাঘাটের মেয়ে পিঙ্কি রায়। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কিন্তু সাফল্যের মুহূর্তে আনন্দের পাশাপাশি বারবার ফিরে আসছে মায়ের স্মৃতি। পদক হাতে ঘরে ফেরার পর সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না পিঙ্কি। চোখে জল, গলায় আবেগ—মনে পড়ল সেই মায়ের কথা, যিনি নিজের জীবনের লড়াইয়ের মধ্যেই মেয়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।

২০২৬ এশিয়ান গেমসের মহিলাদের কবাডি ফাইনালে ইরানকে ৩৭-৩৪ পয়েন্টে হারিয়ে সোনা জিতেছে ভারত। ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন পিঙ্কি রায়। ৩৩ বছর বয়সে প্রথম বার দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নেমেই তাঁর হাতে উঠেছে এশিয়াডের সোনার পদক। প্রায় ১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা, একাধিকবার জাতীয় শিবিরে সুযোগ পেয়েও মূল দলে জায়গা না পাওয়া এবং চোটের ধাক্কা পেরিয়ে অবশেষে এসেছে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

রানাঘাটে ফিরে পিঙ্কিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে নিজের ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। পিঙ্কির মা এই সাফল্য দেখে যেতে পারেননি। তাই সোনার পদকটি বাবা-মায়ের উদ্দেশেই উৎসর্গ করেছেন তিনি। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর তাঁর মা ঝুমা রায় দুই মেয়েকে বড় করতে কঠিন লড়াই করেছিলেন। পেশায় নাট্যশিল্পী হয়েও সংসারের দায়িত্ব সামলে মেয়ের খেলাধুলার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে মায়ের মৃত্যু হয়।

পিঙ্কির কবাডিতে হাতেখড়ি স্কুলের মাঠে। শিক্ষিকার উৎসাহেই শুরু হয়েছিল পথচলা। পরে রাজ্যস্তর, জাতীয় স্তর এবং ইন্ডিয়ান রেলের হয়ে একের পর এক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। ২০১২ সালে রাজ্য দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও খেলেন। কিন্তু জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য সহজে খোলেনি। একাধিকবার শিবিরে ডাক পেলেও শেষ পর্যন্ত মূল দলে জায়গা হয়নি। চোটও বারবার থামিয়ে দিয়েছে তাঁকে। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে।

২০১৯ সালে দক্ষিণ এশীয় গেমসের আগে হাঁটুর চোট তাঁর সামনে নতুন বাধা তৈরি করে। ২০২৪ সালেও বিশ্বকাপের শিবিরে সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি। তবুও থামেননি পিঙ্কি। চাকরি সামলানোর পাশাপাশি অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে জাতীয় শিবিরে জায়গা করে নিয়ে এশিয়ান গেমসের দলে সুযোগ পান তিনি।

এশিয়াডে সোনা জয়ের পর অবশ্য নিজের সাফল্যেই থেমে থাকতে চান না পিঙ্কি। তাঁর স্বপ্ন রানাঘাটে একটি কবাডি অ্যাকাডেমি তৈরি করা। সেখান থেকে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় উঠে আসুক, জাতীয় দলে সুযোগ পাক—এটাই তাঁর লক্ষ্য। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী রানাঘাটে কবাডি ক্যাম্প তাঁর প্রয়াত মায়ের নামে করার কথাও উঠেছে।

পিঙ্কির এই সাফল্যের গল্প তাই শুধু একটি সোনার পদকের গল্প নয়। এটি দীর্ঘ অপেক্ষা, ব্যর্থতার পর ফের উঠে দাঁড়ানো, চোটকে জয় করা এবং মায়ের অসমাপ্ত স্বপ্নকে নিজের লড়াইয়ের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখার গল্প। রানাঘাটের সেই মেয়ের গলায় এখন এশিয়াডের সোনা। আর চোখের জলে মিশে রয়েছে একটাই অনুভূতি—মা থাকলে হয়তো এই মুহূর্তটা আরও পূর্ণ হয়ে উঠত।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved