Homeজেলাজুট মিলের কর্মীদের জন্য আবাসনের ঘোষণা অর্জুন সিংয়ের, খুশির হাওয়া শ্রমিক মহল্লায়

জুট মিলের কর্মীদের জন্য আবাসনের ঘোষণা অর্জুন সিংয়ের, খুশির হাওয়া শ্রমিক মহল্লায়

resizeplus_eisamay_2026-10-05_r8onq5z3_jela

নিউজ ডেস্ক : ব্যারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগনা জরাজীর্ণ শ্রমিক কোয়ার্টারে দিনের পর দিন বসবাস। পর্যাপ্ত নিকাশি, শৌচাগার কিংবা নিরাপদ বাসস্থানের অভাব—চটকল শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে নতুন আবাসন প্রকল্পের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, যোগ্য চটকল শ্রমিকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। প্রাথমিক ভাবে উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলায় পরীক্ষামূলক ভাবে এই প্রকল্প চালু হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-আরবান ২.০-এর ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ইন পার্টনারশিপ’ বা AHP প্রকল্পের আওতায় এই আবাসন তৈরি করা হবে। মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেণির চটকল শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। রাজ্য শ্রম দফতরের তরফে জেলা প্রশাসন, পুরসভা, শ্রমিক সংগঠন এবং চটকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে উপভোক্তা চিহ্নিত করার কাজ করা হবে।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল ফ্ল্যাটের জন্য শ্রমিকদের তুলনামূলক কম অর্থ দিতে হবে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, যোগ্য উপভোক্তাকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। একটি ফ্ল্যাট তৈরিতে আনুমানিক ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের অনুদান থাকবে, পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাও একটি অংশ বহন করবে।

প্রস্তাবিত আবাসনের আয়তন হবে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ বর্গমিটার, অর্থাৎ আনুমানিক ৩২০ থেকে ৪৮৫ বর্গফুট। প্রতিটি ফ্ল্যাটে অন্তত দু’টি ঘর, একটি রান্নাঘর এবং একটি শৌচাগার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে পুরনো ও অস্বাস্থ্যকর শ্রমিক কোয়ার্টারের পরিবর্তে তুলনামূলক উন্নত পরিবেশে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে শ্রমিক পরিবারগুলির সামনে।

কারা এই সুবিধা পাবেন, তারও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। আবেদনকারী পরিবারের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা হতে হবে এবং আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যের নামে দেশের কোথাও পাকা বাড়ি থাকা চলবে না। সমস্ত আবেদন PMAY-U 2.0-এর নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করার পর যোগ্যদের তালিকা তৈরি করা হবে।

উত্তর ২৪ পরগনায় ভাটপাড়া, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভাকে প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে হুগলিতে শ্রম কমিশনারেটের সহযোগিতায় বিশেষ শিবির করে শ্রমিকদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার চটকল শ্রমিক এই প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে শ্রম দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

অর্জুন সিংয়ের বক্তব্য, বহু বছর ধরে চটকল শ্রমিকদের একাংশ পুরনো এবং জরাজীর্ণ কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। তাঁদের বাসস্থানের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এখন আবেদন সংগ্রহ, নথি যাচাই এবং জমি চিহ্নিতকরণের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে যাবে প্রশাসন।

ফলে দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যার মধ্যে থাকা চটকল শ্রমিক পরিবারগুলির কাছে এই ঘোষণা নতুন আশার বার্তা এনেছে। প্রকল্পটি বাস্তবে কত দ্রুত রূপ পায়, এখন সেদিকেই নজর শ্রমিক মহল্লার।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved