Last updated: October 5th, 2026 at 08:02 pm

নিউজ ডেস্ক: পটাশপুর, পূর্ব মেদিনীপুরকাশ্মীরের পাহাড়ি রাস্তায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের এক পর্যটকের। মৃতার নাম যমুনা ঠাকুর। বয়স ৪৮-৪৯ বছর। তাঁর বাড়ি পটাশপুর-২ ব্লকের বহড়দা গ্রামে। দুর্ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের আরও বেশ কয়েক জন পর্যটক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার খবর সামনে আসতেই মৃতার পরিবার এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত পর্যটকদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের জাহালদা এলাকা থেকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর একটি রিজার্ভ বাসে করে ৬৫ জনের পর্যটক দল জম্মু-কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। দলের অধিকাংশ পর্যটকই পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা মহকুমা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। কাশ্মীর সফর শেষে ফেরার পথেই শনিবার সকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁদের বাস।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীনগর থেকে জম্মুর দিকে ফেরার সময় রামবান জেলার মারুগ এলাকায় জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা মারে। সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাসটির ব্রেক ফেল করেছিল। এরপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ে ধাক্কা মারে বাসটি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও সেনার সাহায্যে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। বাসের প্রায় সমস্ত যাত্রীই কমবেশি আহত হন। তাঁদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা যমুনা ঠাকুরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলেও প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পটাশপুরে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বহড়দা গ্রামে। রবিবার পটাশপুর-২ ব্লকের বিডিও, জয়েন্ট বিডিও এবং প্রশাসন-পুলিশের আধিকারিকেরা যমুনা ঠাকুরের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের কাশ্মীরে যাওয়ার ব্যবস্থাও প্রশাসনের তরফে করা হয়েছে।
দেহ রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে কয়েক দিন সময় লাগার সম্ভাবনা থাকায় পরিবারের সম্মতিতে জম্মুতেই যমুনা ঠাকুরের শেষকৃত্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্ত্যেষ্টিতে যোগ দিতে পরিবারের চার সদস্যকে ট্রেনে জম্মু পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় খরচ প্রশাসনের তরফে বহন করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, আহত পর্যটকদের দ্রুত বাংলায় ফেরানোর উদ্যোগও শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ জন আহত পর্যটকের জন্য হিমগিরি এক্সপ্রেসে ফেরার টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসার পর অনেককেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন দু’জনের অবস্থাও আপাতত স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। বাকিদের একটি রিজার্ভ বাসে করে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পর জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের তরফেও দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা এবং তাঁদের নিরাপদে বাড়ি ফেরানোর বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে পর্যটকদের পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রশাসনের তৎপরতায় ধীরে ধীরে তাঁদের ফেরানোর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
একটি পর্যটন সফর শেষ হওয়ার মুখে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যে পরিবারগুলির কাছে ভয়াবহ আঘাত হয়ে এসেছে, তা স্পষ্ট। এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য আহতদের চিকিৎসা এবং বাকি পর্যটকদের নিরাপদে বাংলায় ফিরিয়ে আনা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments