Last updated: October 5th, 2026 at 08:29 pm

নিউজ ডেস্ক: লখনউ, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে সমাজবাদী পার্টি (সপা) এবং কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্য। এই আবহেই এবার তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন সপা প্রধান অখিলেশ যাদব। কংগ্রেসের নাম সরাসরি না করলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, জোটে কে কতগুলি আসন পেল, তার চেয়ে নির্বাচনে জোটের জয়কেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে সপা।
রবিবার সমাজমাধ্যমে অখিলেশ লেখেন, জোটের মধ্যে কোন দল কতগুলি বা কোন নির্দিষ্ট আসন পেল, সেটিই মূল বিষয় নয়। তাঁর কথায়, লক্ষ্য হওয়া উচিত জোটের জয় নিশ্চিত করা। তিনি আরও জানান, বিষয়টি আসনের নয়, জয়ের। অর্থাৎ আসন বণ্টন নিয়ে দরকষাকষির বদলে যে আসনে যে দল জিততে সক্ষম, সেখানে সেই দলকেই প্রার্থী করার নীতির পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
এই মন্তব্যের পিছনে রয়েছে আসন-রফা নিয়ে দুই শরিকের টানাপড়েন। কংগ্রেসের উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, ৪০৩ আসনের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় তাঁদের দল অন্তত ১৫০টি আসনে লড়তে চায়। অক্টোবরের মধ্যেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিল কংগ্রেস।
অন্য দিকে, সপা শিবিরের বক্তব্য, কংগ্রেসের এই দাবি মেনে নেওয়া সহজ নয়। দলের সাংসদ শিব পাল সিং প্যাটেল প্রকাশ্যেই বলেছেন, ১৫০ আসন ছাড়ার প্রশ্ন নেই। এমনকি ৫০টি আসনও কংগ্রেসের জন্য বেশি হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ফলে দুই দলের মধ্যে আসন বণ্টনের অঙ্ক যে এখনও জটিল, তা স্পষ্ট।
অখিলেশ অবশ্য জোট ভাঙার কোনও ঘোষণা দেননি। বরং তাঁর বক্তব্যে জোটের ঐক্যের উপরেই জোর রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে থাকলে জোটের শরিকরা ঐক্যবদ্ধভাবেই এগোবে। তাঁর রাজনৈতিক বার্তার কেন্দ্রে রয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই, গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার কথা।
এরই মধ্যে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সাংগঠনিক স্তরেও বড় পরিবর্তন হয়েছে। অজয় রাইকে সরিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরাধনা মিশ্রকে। পাশাপাশি ইমরান মাসুদকে কার্যকরী সভাপতি করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সপার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মসৃণ করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
তবে অখিলেশের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখার আগে জোটের সামগ্রিক আলোচনাটিও মাথায় রাখা প্রয়োজন। সপা নেতৃত্ব যেখানে জেতার সম্ভাবনা অনুযায়ী আসন বণ্টনের কথা বলছে, কংগ্রেস সেখানে নিজেদের সাংগঠনিক বিস্তার ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলের ভিত্তিতে বেশি আসন চাওয়ার অবস্থান নিয়েছে।
ফলে উত্তরপ্রদেশে বিরোধী জোটের আসন-সমঝোতা এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। শেষ পর্যন্ত ৪০৩ আসনের মধ্যে কোন দল কতগুলি আসনে লড়বে, এবং কোন আসনে কে প্রার্থী হবে—তার উপরই পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে। আপাতত অখিলেশের বার্তা একটাই—আসনের সংখ্যা নয়, জয়ের সম্ভাবনাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকুক।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments