Last updated: October 5th, 2026 at 02:48 pm

নিউজ ডেস্ক: পুজোর আবহে চারদিকে যখন উৎসবের প্রস্তুতি, তখনও পুরনো ক্ষতের স্মৃতি বয়ে চলেছে জলপাইগুড়ির বেতগাড়া। ভয়াবহ বিপর্যয়ের এক বছর পার হলেও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি এলাকার বহু পরিবার। কোথাও এখনও ভাঙনের চিহ্ন, কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা বা পরিকাঠামোর স্মৃতি, আবার কোথাও হারিয়ে যাওয়া স্বজন ও সম্পত্তির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই ভয়াবহ সময়ের কথা।
এক বছর আগে আচমকা নেমে আসা বিপর্যয় বদলে দিয়েছিল বেতগাড়ার বহু পরিবারের জীবন। রাতারাতি আতঙ্ক ছড়িয়েছিল এলাকায়। দুর্যোগের ধাক্কায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। প্রশাসনের তরফে উদ্ধার ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হলেও বিপর্যয়ের পরের লড়াই যে অনেক দীর্ঘ, তা এখন স্পষ্ট।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বিপর্যয়ের পর কিছু এলাকায় প্রশাসনিক ভাবে মেরামতি ও পুনর্গঠনের কাজ হয়েছে। কিন্তু সব ক্ষত এখনও শুকোয়নি। অনেক পরিবারের কাছে ক্ষয়ক্ষতির অর্থ শুধু একটি ঘর বা জমি হারানো নয়, বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা সংসারের ভিত নড়ে যাওয়া। কেউ এখনও আর্থিক চাপ সামলাচ্ছেন, কেউ আবার নতুন করে ঘর-সংসার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পুজো এলেও তাই আগের মতো আনন্দ নেই অনেক পরিবারের। অন্য পাড়ায় যখন পুজোর বাজার, নতুন জামাকাপড় কেনা কিংবা মণ্ডপসজ্জার ব্যস্ততা, তখন বেতগাড়ার বহু মানুষ এখনও হিসাব কষছেন—কী ভাবে সংসারের খরচ সামলাবেন। দুর্গাপুজো তাঁদের কাছেও উৎসব, কিন্তু সেই উৎসবের মাঝেও গত বছরের ভয়াবহ স্মৃতি ফিরে আসছে বার বার।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিপর্যয়ের পরে যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সবটা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন, রাস্তা ও পরিকাঠামো সংস্কার এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, শুধু বিপর্যয়ের সময় ত্রাণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পরবর্তী সময়ে মানুষ যাতে নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারেন, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
প্রশাসনের তরফে অবশ্য বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করার কথা বলা হয়েছে। বর্ষাকাল পেরিয়ে উৎসবের মরশুমে এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, আগামী দিনে ফের এমন বিপর্যয় হলে প্রস্তুতি কতটা রয়েছে?
এক বছর আগে যে আতঙ্ক বেতগাড়াকে গ্রাস করেছিল, তার অনেকটাই হয়তো সময়ের সঙ্গে মুছে গিয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে সেই দিন এখনও জীবন্ত। পুজোর ঢাকে যখন উৎসবের সুর বাজছে, তখন বেতগাড়ার মানুষের মনে তাই একটাই প্রার্থনা—পুরনো ক্ষত দ্রুত সারুক, আর নতুন করে যেন কোনও বিপর্যয় তাঁদের জীবন তছনছ না করে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments