Homeঅন্যান্যবেঙ্গালুরুতে বডি-শেমিং বা গালিগালাজ মহিলার শালীনতা লঙ্ঘনের অপরাধ নয়, জানাল কর্নাটক হাইকোর্ট

বেঙ্গালুরুতে বডি-শেমিং বা গালিগালাজ মহিলার শালীনতা লঙ্ঘনের অপরাধ নয়, জানাল কর্নাটক হাইকোর্ট

eisamay_2026-10-03_ymraswmk_karnatak-hc

নিউজ ডেস্ক :বডি-শেমিং বা কোনও মহিলাকে শারীরিক গঠন নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা এবং গালিগালাজ করলেই তা আইনের চোখে মহিলার শালীনতা লঙ্ঘনের অপরাধ হয়ে যায় না। একটি মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে কর্নাটক হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় অপরাধ প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট আইনি উপাদান থাকা প্রয়োজন। শুধু শারীরিক চেহারা নিয়ে অপমান বা মৌখিক গালিগালাজের অভিযোগ থাকলেই ওই ধারায় মামলা চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

বেঙ্গালুরুতে দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। অভিযোগ ছিল, এক তরুণীকে কয়েকজন ব্যক্তি মোটা হওয়া নিয়ে কটূক্তি, বডি-শেমিং, বর্ণবিদ্বেষমূলক এবং অশালীন ভাষায় অপমান করেছিলেন। ঘটনার পর অভিযোগকারিণী পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিটও জমা দেয়।

মামলাটি পরবর্তী সময়ে কর্নাটক হাইকোর্টে পৌঁছয়। বিচারপতি এসআর কৃষ্ণ কুমারের বেঞ্চ বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত দুই মহিলার বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি প্রক্রিয়া খারিজ করে দেয়। আদালত উল্লেখ করে, ৫০৯ ধারায় মামলা টিকিয়ে রাখার জন্য যে প্রয়োজনীয় উপাদান থাকা দরকার, সংশ্লিষ্ট নথিতে তার পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

এই ধারায় কোনও মহিলার শালীনতা অপমান করার উদ্দেশ্যে শব্দ, অঙ্গভঙ্গি, শব্দ বা কোনও ধরনের কাজ করা কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে কেবল অপমানজনক মন্তব্য বা গালিগালাজ হয়েছে বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫০৯ ধারা প্রযোজ্য হবে না—আদালতের পর্যবেক্ষণের মূল বক্তব্য এমনই।

মামলার নথি অনুযায়ী, একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তৃতীয় এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলা মামলাও এর আগে হাইকোর্ট খারিজ করেছিল। বর্তমান মামলায় অভিযোগের ধরন একই হওয়ায় আদালত সেই আগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুই অভিযুক্তের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নেয়।

তবে এই রায়ের অর্থ এই নয় যে বডি-শেমিং বা অপমানজনক মন্তব্য আইনত সব ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য। কোনও ঘটনায় অন্য কোনও ফৌজদারি ধারার উপাদান থাকলে পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিচার হতে পারে। কর্নাটক হাইকোর্টের বর্তমান পর্যবেক্ষণটি মূলত ৫০৯ ধারার নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই।

ফলে এই রায় ঘিরে আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—কোন ধরনের মন্তব্য বা আচরণকে ৫০৯ ধারার আওতায় আনা যায় এবং কোন ক্ষেত্রে অভিযোগের সঙ্গে অতিরিক্ত আইনি উপাদান প্রয়োজন, তা নিয়েই এখন নজর বিশেষজ্ঞদের।

No Comments