Homeনদিয়াশান্তিপুরগয়েশপুরভাগীরথী পাড়ের বৃত্তান্ত: নদীর গ্রাসে ভিটেমাটি, ত্রিপলের নীচে দিন কাটছে বহু পরিবারের

ভাগীরথী পাড়ের বৃত্তান্ত: নদীর গ্রাসে ভিটেমাটি, ত্রিপলের নীচে দিন কাটছে বহু পরিবারের

Screenshot 2026-09-30 142502_edited

দেবকুমার মিত্র: শান্তিপুর ব্লকের গয়েশপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শ্রীরামপুর। এক সময় যে নদীপাড়ে ছিল ঘরবাড়ি, উঠোন, রান্নাঘর, বারান্দা আর সংসারের চেনা ব্যস্ততা, আজ সেই জায়গার বড় অংশই ভাগীরথীর গর্ভে। নদীভাঙনের দাপটে একের পর এক পরিবার হারিয়েছে নিজেদের ভিটেমাটি। পড়ে রয়েছে শুধু ভাঙা ঘরের ধ্বংসাবশেষ আর অসংখ্য স্মৃতির চিহ্ন।

ভাগীরথীর পাড়ে দাঁড়ালে এখন চোখে পড়ে নদীভাঙনের সেই ভয়াবহ ছবি। যে অংশে একসময় মানুষ পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন, সেখানে এখন ফাঁকা জমি। কোথাও মাটির চিহ্নও নেই। নদীর স্রোত ধীরে ধীরে গ্রাস করেছে বসতভিটে, ঘরবাড়ি এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত জীবনযাত্রা।

স্থানীয়দের কথায়, নদীর ভাঙন শুধু তাঁদের মাথার উপর থেকে ছাদ কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে বহু বছরের স্মৃতি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তাও। অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে এখন কার্যত সহায়-সম্বলহীন। নদীর পাড়েই ত্রিপল টাঙিয়ে কোনও রকমে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকটি পরিবার। একই আশ্রয়ের নীচে মানুষ এবং গবাদি পশু—এমনই কঠিন বাস্তবতার ছবি উঠে এসেছে শ্রীরামপুরে।

নদীর ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভাঙা বাড়ির অংশগুলি যেন অতীতের সাক্ষী। কোথাও ভাঙা দেওয়াল, কোথাও ঘরের মেঝের সামান্য অংশ, কোথাও আবার রান্নাঘরের অবশিষ্ট কাঠামো। এই জায়গাগুলিতেই একসময় চলত সংসার। রান্নাঘরে প্রতিদিন রান্না হত পরিবারের সকলের জন্য। বারান্দায় বসে একসঙ্গে খাবার খেতেন পরিবারের সদস্যরা। উৎসব-অনুষ্ঠানে আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠত বাড়ির আঙিনা।

আজ সেই সব স্মৃতি শুধুই অতীত।

নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ভাঙা বাড়ির অবশিষ্টাংশের দিকে তাকালে যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া একটি জীবনের ছবি। যে ঘরে একটি প্রজন্ম বড় হয়েছে, যে উঠোনে শিশুদের খেলাধুলো, যে বাড়িতে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছে পরিবার—আজ তার অধিকাংশই নদীর জলে মিশে গিয়েছে।

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও হাল ছাড়েননি ভাঙনকবলিত মানুষগুলি। যেটুকু সম্বল বেঁচে রয়েছে, সেটুকু নিয়েই নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। মাথার উপর স্থায়ী ছাদ নেই, ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবু সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করছেন তাঁরা।

ভাগীরথীর স্রোত হয়তো কেড়ে নিয়েছে তাঁদের বহু বছরের ঠিকানা, কিন্তু হারিয়ে দিতে পারেনি বেঁচে থাকার ইচ্ছেটুকু। নদীপাড়ের এই মানুষগুলির কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—কবে ফিরবে স্থায়ী আশ্রয়, কবে থামবে ভাঙনের আতঙ্ক?

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved