
নিউজ ডেস্ক:একসময় যেখানে ছিল ঘর, উঠোন, বারান্দা—আজ সেখানে বইছে ভাগীরথীর জল। নদীভাঙনের ভয়াবহতায় ভিটেমাটি হারিয়ে কার্যত সর্বস্বান্ত শান্তিপুর ব্লকের গয়েশপুর পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর গ্রামের একাধিক পরিবার। ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন নদীর বাঁধের পাশে প্লাস্টিকের ত্রিপল টাঙিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিনে নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় বহু পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে হয়েছে। কোথাও ভাঙা দেওয়ালের অংশ, কোথাও ছড়িয়ে থাকা ইট—পুরনো বসতির অস্তিত্বের এখন সেটুকুই চিহ্ন।
যে বাড়িতে একসময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সংসার চলত, সেই ঘর আজ নেই। রান্নাঘর, বারান্দা, উঠোন—সবই চলে গিয়েছে নদীর গ্রাসে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পরিবারগুলির অনেকেই এখন অস্থায়ী ত্রিপলের আশ্রয়ে রয়েছেন।
পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে গবাদি পশু নিয়ে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক পরিবারকে একই অস্থায়ী আশ্রয়ের মধ্যে নিজেদের পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ গবাদি পশু রাখতে হচ্ছে। বর্ষার আবহাওয়া এবং নদীর ভাঙনের আশঙ্কার মধ্যে এইভাবে দিন কাটানোই এখন তাঁদের কাছে একমাত্র উপায়।
স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধু শুকনো খাবার বা সাময়িক ত্রাণ দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাঁদের দাবি, নদীভাঙন রুখতে দ্রুত কার্যকর বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য নিরাপদ জায়গায় স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
ভাঙনের জেরে শুধু ঘরবাড়িই নয়, বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের স্মৃতি, জমি এবং জীবিকার ভিত্তিও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। নতুন করে ঘর তৈরি করার মতো আর্থিক সামর্থ্য অনেকেরই নেই। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে ভাঙনপীড়িত পরিবারগুলির।
প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত পুনর্বাসন এবং ভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা প্রয়োজন। নদীর গতিপথের পরিবর্তন এবং নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক রয়েছে।
আজ শ্রীরামপুরে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে মানুষগুলির মাথার উপর থেকে নদী ছিনিয়ে নিয়েছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা আশ্রয়, তাঁদের ভবিষ্যৎ কোথায়?
ত্রিপলের অস্থায়ী ছাউনিতে নয়, তাঁরা চাইছেন নিরাপদ একটি স্থায়ী ঠিকানা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments