
নিউজ ডেস্ক:পুজোর আগে বাজারে যখন কেনাকাটার ব্যস্ততা তুঙ্গে, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার একটি মদের দোকানের সামনে দেখা গেল একেবারে অন্যরকম দৃশ্য। পরিবারের জন্য পুজোর কেনাকাটা না করে মদের পিছনে টাকা খরচ করা যাবে না—এই বার্তা দিতে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে খদ্দেরদের জেরা করতে দেখা গেল স্থানীয় কয়েকজনকে।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োকে ঘিরেই শুরু হয়েছে এই চর্চা। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, দোকানের সামনে লাঠি হাতে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি এবং কিছু মহিলা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মদ কিনতে আসা ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, পুজোর জন্য পরিবারের সদস্যদের নতুন জামাকাপড় কেনা হয়েছে কি না।
শুধু কথায় নয়, পরিবারের জন্য কেনাকাটার বিল দেখানোর কথাও বলা হচ্ছে বলে ভিডিয়োয় দাবি করা হয়েছে। কারও কাছে সেই বিল না থাকলে তাঁকে মদের দোকানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না—এমন দৃশ্যও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফলে মদ কেনার আশায় লাইনে দাঁড়িয়েও কয়েকজনকে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের বক্তব্য, সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে তারপর নেশার জন্য টাকা খরচ করা উচিত। বিশেষ করে পুজোর সময়ে পরিবারের শিশু ও অন্যান্য সদস্যদের নতুন জামাকাপড় এবং প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ বলে দাবি তাঁদের।
ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই এই উদ্যোগকে অভিনব বলে প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে পরিবারের খরচের কথা মাথায় রেখে নেশার পিছনে অতিরিক্ত টাকা খরচ না করার বার্তা সাধারণ মানুষের একাংশের নজর কেড়েছে।
তবে একইসঙ্গে প্রশ্নও উঠেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে আটকে দেওয়া বা মদ কেনার ক্ষেত্রে জোর করে কোনও শর্ত চাপিয়ে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক সচেতনতার বার্তা থাকলেও কারও চলাফেরা বা বৈধ ক্রয়-বিক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সীমারেখা রয়েছে।
অর্থাৎ, একদিকে উৎসবের আগে পরিবারের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা, অন্যদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রশ্ন—দুইয়ের টানাপোড়েনেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে উত্তর ২৪ পরগনার এই ঘটনা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments