Homeজেলাপদ্ম নেতা খুনে জমি কারবারের যোগ? নানুরগামী রাস্তায় গেল স্নিফার ডগ

পদ্ম নেতা খুনে জমি কারবারের যোগ? নানুরগামী রাস্তায় গেল স্নিফার ডগ

resizeplus_eisamay_2026-07-28_jbyuw1yc_crime

নিউজ ডেস্ক: বীরভূমের বোলপুরে বিজেপি মণ্ডল সভাপতি চন্দন ভল্লার খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একাধিক প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিরোধ, না কি জমি সংক্রান্ত বিবাদ—ঠিক কোন কারণে তাঁকে খুন করা হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে জমি-কারবারের একটি যোগ। সেই সূত্র ধরেই বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

রবিবার সকালে এক ক্রেতাকে জমি দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন চন্দন। পরে মিলপট্টি এলাকায় তাঁর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, মোটরবাইকে আসা দুই দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলটি একটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিলের পাশের নির্জন এলাকা। সেখানে পর্যাপ্ত আলোও ছিল না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ওই জায়গায় জমি দেখানোর জন্য কেন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, তাঁকে পরিকল্পনা করেই ওই এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। খুনের আগে তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা জানতে তাঁর মোবাইলের কললিস্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যুক্ত হয়েছে সিআইডি এবং এসটিএফ।

এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় ছ’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনের জমি-কারবারের সঙ্গে যোগ রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। ফলে জমি সংক্রান্ত কোনও লেনদেন বা বিবাদের জেরে এই খুন কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে শুধুই জমি সংক্রান্ত কারণ নয়, রাজনৈতিক বিরোধের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। চন্দনের স্ত্রী শ্যামলী ভল্লার দাবি, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বামী অনেকের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। চন্দনের পরিবারের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির নাম অভিযুক্ত হিসেবে দেওয়া হয়নি।

ঘটনার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে পুলিশ কুকুর। আসানসোল থেকে আনা জার্মান শেফার্ড ‘লাকি’ ঘটনাস্থল থেকে গন্ধ শুঁকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে আরতি সিনেমা মোড় পর্যন্ত যায়। সেই রাস্তা নানুরের দিকে চলে গিয়েছে। পুলিশের অনুমান, খুনের পর দুষ্কৃতীরা ওই পথ ব্যবহার করে পালিয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেন্সিক দলও নমুনা সংগ্রহ করেছে। ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, খুনের পদ্ধতি এবং অভিযুক্তদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

ফলে বোলপুরের এই খুনের ঘটনায় এখন বড় প্রশ্ন—জমি-কারবারের কোনও বিবাদ, নাকি রাজনৈতিক সংঘাত? তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে দুই সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত খুনের প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved