Homeনদিয়াভীমপুরফাঁকা বাড়িতে নাবালিকাকে ‘ধর্ষণ’ খোদ মাসতুতো দাদার! ভীমপুরে রক্তের সম্পর্কের আড়ালে পৈশাচিক লালসা, পুলিশের জালে অভিযুক্ত

ফাঁকা বাড়িতে নাবালিকাকে ‘ধর্ষণ’ খোদ মাসতুতো দাদার! ভীমপুরে রক্তের সম্পর্কের আড়ালে পৈশাচিক লালসা, পুলিশের জালে অভিযুক্ত

vimpur ps

নিউজ ডেস্ক: সভ্যতার চরম শিখরে দাঁড়িয়েও বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা। যে চার দেওয়ালের অন্দরমহলকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বলে মনে করা হয়, সেই আপন বাড়িও কি আজ আর সুরক্ষিত? যে রক্তের সম্পর্ক, যে আত্মীয়-পরিজন বিপদে-আপদে সবচেয়ে বড় ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর কথা, সেই আত্মীয়ই যদি পৈশাচিক লালসার বশবর্তী হয়ে রক্ষক থেকে ভক্ষকের রূপ ধারণ করে, তবে সমাজের কাছে এর চেয়ে বড় অশনিসংকেত আর কী হতে পারে! এমনই এক হাড়হিম করা, শিহরণ জাগানো এবং চরম নারকীয় যৌন নির্যাতনের ঘটনা এবার খাস নদিয়ার বুকে। বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে এক নাবালিকাকে তার খোদ মাসতুতো দাদা ধর্ষণ করেছে বলে এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়ংকর অভিযোগ সামনে এল নদিয়া জেলার ভীমপুর থানা এলাকায়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা ভীমপুর ও সংলগ্ন এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রামবাসীরাই হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। বর্তমানে ওই নির্যাতিতা নাবালিকা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাড়হিম করা এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে আজ, অর্থাৎ সোমবার সকালবেলা। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল দশটা থেকে এগারোটা বাজবে। পরিবারের অন্যান্য বয়স্ক সদস্যরা তাঁদের প্রাত্যহিক দৈনন্দিন কাজে বা জীবিকার তাগিদে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন। বাড়িতে সেই সময় সম্পূর্ণ একা ছিল ওই নাবালিকা। আর ঠিক সেই চরম অসহায় মুহূর্তটির জন্যই যেন ওঁত পেতে অপেক্ষা করছিল অভিযুক্ত। অভিযোগ, নাবালিকা বাড়িতে একা রয়েছে বুঝতে পেরেই সেখানে চুপিচুপি প্রবেশ করে তার নিজের মাসির ছেলে, বছর কুড়ির মফিজুল শেখ। রক্তের সম্পর্কের মাসতুতো দাদা হওয়ায় প্রথমটায় তার আগমনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ বা বিপদের আঁচ করতে পারেনি ওই অবুঝ নাবালিকা। কিন্তু ঘরের ভেতরে ঢুকেই নিজের আসল পৈশাচিক রূপ ও বীভৎস লালসা প্রকাশ করে মফিজুল।

অভিযোগ, নাবালিকাকে একা পেয়ে বাইরে থেকে কেউ যাতে কিছু বুঝতে না পারে, তার জন্য মফিজুল প্রথমে অত্যন্ত সুকৌশলে ঘরের সমস্ত দরজা ও জানলা ভেতর থেকে শক্ত করে বন্ধ করে দেয়। এরপর ওই অসহায় নাবালিকার ওপর সে জোরপূর্বক চরম শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালায়। নাবালিকা প্রাণভয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করলেও তার মুখ চেপে ধরে এই নারকীয় ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু পাশবিক এই অত্যাচারের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, নাবালিকার অস্ফুট আর্তনাদ ও বুকফাটা কান্নার শব্দ শেষ পর্যন্ত ঘরের চার দেওয়াল ভেদ করে বাইরে পৌঁছয়। সেই অস্বাভাবিক কান্নার আওয়াজ শুনে আশপাশের সতর্ক প্রতিবেশীরা আর এক মুহূর্তও কালবিলম্ব না করে ওই বাড়ির দিকে ছুটে আসেন। ঘরের দরজা বন্ধ দেখে তাঁরা ধাক্কাধাক্কি শুরু করতেই বেগতিক বুঝে পেছনের দরজা বা অন্য কোনও গোপন পথ দিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত মফিজুল।

প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে যে মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেন, তা তাঁদের কার্যত হতবাক করে দেয়। রক্তাক্ত, বিধ্বস্ত এবং চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছিল ওই একরত্তি মেয়েটি। কালবিলম্ব না করে প্রতিবেশীরাই তড়িঘড়ি খবর দেন ভীমপুর থানার পুলিশকে এবং নাবালিকার পরিবারকে। খবর পাওয়া মাত্রই ভীমপুর থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় ওই নির্যাতিতা নাবালিকাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসা ও মেডিক্যাল পরীক্ষার (Medical Examination) জন্য কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল ওই নাবালিকার চিকিৎসা করছে এবং তার অবস্থা এখনও যথেষ্ট আশঙ্কাজনক।

অন্যদিকে, এই চরম পাশবিক ও নারকীয় ঘটনার কথা গোটা গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন কার্যত বারুদের মতো ফেটে পড়ে। অভিযুক্ত মফিজুল শেখকে যেকোনো মূল্যে ধরার জন্য গ্রামবাসীরাই লাঠিসোঁটা হাতে চারদিকে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর গ্রামের অদূরেই একটি নির্জন কুলবাগানের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত মফিজুল। উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে প্রথমে উত্তমমধ্যম দেয় এবং পরে ভীমপুর থানার পুলিশের হাতে তাকে তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই মফিজুল শেখ এলাকায় রীতিমতো সমাজবিরোধী ও উশৃঙ্খল যুবক হিসেবেই পরিচিত। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এলাকায় মহিলাদের উত্ত্যক্ত করা, চুরি-ছিনতাই এবং নানা ধরনের অসামাজিক ও দুষ্কর্মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু রক্তের সম্পর্কের এক নাবালিকা বোনের সঙ্গে সে এমন বীভৎস কাণ্ড ঘটাতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ভীমপুর থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইন (POCSO Act) এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট ধারায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে ভীমপুর থানার পুলিশ।

আগামীকাল অভিযুক্তকে কৃষ্ণনগর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে (Police Remand) নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে জানা গিয়েছে। গ্রামবাসীদের এখন একটাই স্পষ্ট দাবি— শুধু গ্রেফতারিই নয়, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে (Fast Track Court) দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই ধর্ষকের যেন এমন দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, যা দেখে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়। উৎসবের মরশুমে বাংলার বুকে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা আরও একবার নারী নিরাপত্তার চরম কঙ্কালসার চেহারাটাকেই জনসমক্ষে বেআব্রু করে দিয়ে গেল।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved